পাতা:হলুদ পোড়া - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

হলুদ পোড়া O কিন্তু অস্বাভাবিক প্ৰবল আনন্দের রস ঠিক বিষের মত কাজ করে, five “চুপ করুন।” বলিতে বলিতে নন্দ বেশ উৎসাহিত হইয়া উঠিতেছিল, থিতামত খাইয়া চুপ করিল। তারপর হঠাৎ রাগ করিয়া বলিল “অক্ষয় বাবুকেই জিজ্ঞাসা কোরো কথাগুলি সত্যি কি মিথ্যা । তিন বছর ওমনি মেডিকেল কলেজে পড়িনি। সুমতি, কিছু কিছু সবই জানি।”

  • আচ্ছা ! দুধটা খেয়ে ফেলুন।” নন্দ মুখ ভার করিয়া দুধ খাইয়া বলিল ‘এবার কি করতে হবে ? লক্ষ্মী ছেলের মত ঘুমোব ? না ক খ শিখব ?”

“আপনার খুন্সী’ বলিয়া সুমতি চলিয়া যাইতেছিল, নন্দ, ডাকিয়া ফিরাইল। ‘চলে যাও যে ? আমায় ঘুম পাড়িয়ে যাও। আমার আনন্দে বৈচিত্ৰ্য দিয়ে যাও ভাল চাও ত', নইলে রাতারাত্ত্বি হার্টফেল कैलव।' সুমতি উদ্ধতভাবে ঘুরিয়া দাঁড়াইল কিন্তু যে জবাব সে দিতে চাহিয়াছিল নন্দর মুখ দেখিয়া তাহা আর মুখ দিয়া বাহির করিতে-শাস্ট্রিল না। শান্ত কণ্ঠেই বলিল “কি করতে शर्दैव বলুন ।” "নন্দ আঙ্গুল বাড়াইয়া বিছানাটা দেখাইয়া বলিল, “বালিশ সরিয়ে বিছানায় বোস, তোমার কোলে মাথা দিয়ে আমি শোব। ব্যস, আর কিছু না। আমি ঘুমিয়ে পড়লে চলে যেও।” সুমতি বিবেচনা করিয়া দেখিল, নন্দর দাবী যে অদ্ভঙ্গত নয় তাহার সপক্ষে যুক্তি আছে। আনন্দে তাহার বৈচিত্ৰ্য না আসিলে রাত্রে সত্যই সে ঘুমাইতে পরিবে না। সমস্ত রাত্রি এই উত্তেজনায় ছটফট করিয়া কাটাইলে আজিকার সামান্য অসুখ কাল বাড়িয়া যাওয়ার