বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/১০৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পণ্ডিত কিষণ সিংহ

লবণের নদী

 ১১ই অক্টোবর, ১৮৭৯। সাড়ে চারি মাইল মাত্র পথ চলিয়াই একটি ছোট নদী পার হইলাম। নদীটির নাম দি-চূ বা থোক্‌থো। নদীটির কাছেই একটি ছোট সুন্দর হ্রদ। হ্রদের জল যেমন স্বচ্ছ তেমনি মিষ্টি। আমরা এই হ্রদের তীরে রাত্রি কাটাইলাম। এখানে আসিয়া আর কোন দিকেই পথ পাইতেছিলাম না। এ সময়ে আমাদের অভিযাত্রীদলকে কয়েকজন মোঙ্গোলীয় পথ-প্রদর্শক পথ দেখাইয়া লইয়া চলিল। তাহারা এক একটি গিরিশৃঙ্গ দেখিয়া কোন্ দিকে কোন্ পথে অগ্রসর হইতে হইবে তাহা চিনিতে পারিয়াছিল।

 ১১ই অক্টোবর। আড়াই মাইল মাত্র পথ চলিয়া আসিবার পরই আমরা প্রায় ষোল মাইল দূরে দুইটি তুষারাবৃত গিরিশৃঙ্গ দেখিতে পাইলাম। অতি চমৎকার দৃশ্য। নীল আকাশের গায়ে ধবল-তুষার-বিমণ্ডিত গিরিশৃঙ্গের শোভন সৌন্দর্য্য না দেখিলে বুঝাইয়া বলা যাইতে পারে না। পর্ব্বত শৃঙ্গ দুইটির মনোরম শোভা দেখিতে দেখিতে চলিলাম। কিছু দূর যাইয়াই ম্যারাস্ নদীর সাক্ষাৎ মিলিল। এই নদীটি টেঙ্গরিনোর হ্রদ হইতে বাহির হইয়া আসিয়াছে এবং চীনদেশের বহুস্থানকে উর্ব্বর করিয়া বহিয়া চলিয়াছে। এই নদীটি এখানে সপ্ত শাখায় বিভক্ত হইয়া সাত দিকে বহিয়া গিয়াছে। প্রত্যেকটি

৮৭