বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/১০৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পণ্ডিত কিষণ সিংহ

তুষারপাতের মধ্য দিয়া অগ্রসর হওয়া অপেক্ষা এক স্থানে অবস্থান করাই সঙ্গত মনে করিয়াছিলাম। তিনটী ঘোড়ার পীড়া হইয়াছিল—দুইটী বাঁচিয়া উঠিল, একটি মারা গেল।

 ২১শে অক্টোবর। সাত মাইল পথ চলিয়া আমরা একটা হ্রদের কাছে আসিলাম। হদের জল প্রায় অর্দ্ধেক পরিমাণ জমিয়া বরফ হইয়া গিয়াছিল, বাকী জলটা বেশ সুমিষ্টই ছিল। আমরা হ্রদের পারেই রাত্রিটা কাটাইয়া দিলাম।

 ২২শে অক্টোবর প্রায়  / মাইল পথ চলিতে চলিতে আমরা একটা ছোট হ্রদের ধারে আসিলাম। আমাদের সহিত এই হ্রদের তীরে একদল মোঙ্গোলীয় বণিকদলের সহিত সাক্ষাৎ হইল—তাহারা লাশা যাইতেছিল। এই দলে স্ত্রী পুরুষ প্রায় ১৫০ লোক ছিল। ৬০টি উট ও ১০০টি ঘোড়া ছিল। আমরা তাহাদিগকে আমাদের দলের কথা জিজ্ঞাসা করায় প্রথমে দেখে নাই বলিল, পরে থাকার করিল যে মাচু নদীর পারে তাহারা দলটি দেখিয়াছে, তবে উহা পশুপাল বলিয়া মনে করিয়াছিল। আমাদের কথা শুনিয়া তাহারা বলিল যে তাহা হইলে নিশ্চয়ই উহা বণিক্‌যাত্রীর দল হইবে।

 এই পথের একটা বিশেষত্ব এই দেখিলাম যে যাত্রীদল পরস্পরের প্রতি পরস্পর বিশেষ সহানুভূতিশীল! একদল অন্য এক বিপন্ন দলকে সর্ব্বদাই সাহায্য করিতে প্রস্তুত। আমাদের

৯১