বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/১১৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

উট প্রভৃতি অনেকগুলি তৃণপূর্ণ ক্ষেত্রে মনের আনন্দে চরিয়া বেড়াইতেছিল। এখানে আসিলে মনে হয় না যে আমরা তিব্বতের দুর্গম পথের যাত্রী। এই পথে আসিতে আসিতে প্রকৃতির নানারূপ বৈচিত্র্যপূর্ণ শোভা, সৃষ্টির অপূর্ব্ব মাধুর্য্য দেখিয়া মুগ্ধ হইতেছিলাম। উপত্যকার পূর্ব্ব দিক দিয়া নৈচি নদী বেশ বিস্তৃতভাবে বহিয়া যাইতেছিল, সেখানে নদীর চওড়া ছিল অত্যন্ত বেশী। এই উপত্যকায় অসভ্য যাযাবরেরা বাস করে। তাহারা সব সময়ই যে এখানে থাকে তাহা নহে, আমরা যখন এখানে আসিয়াছিলাম সে সময়ে এখানে দশটি তাঁবু পড়িয়াছিল। তাঁবুগুলি কি প্রকার সে কথা পূর্ব্বেই বেশ পরিষ্কারভাবে বলা হইয়াছে। প্রত্যেক তাঁবুতে ছয়জন করিয়া লোক বাস করিতেছিল।

 যাযাবরেরা এই বিস্তৃত উপত্যকার নানা স্থানে বাস করে। ইহারা কখনও বরাবর এক স্থানে তাঁবু গাড়িয়া বাস করে না। যখন যেখানে বেশী পরিমাণ পশুর খাদ্য এবং উর্ব্বর ভূমি দেখিতে পায় সেখানেই ইহারা চলিয়া যায়। এইভাবে এই বিস্তৃত উপত্যকার নানা স্থানে ইহাদের ঘুরিয়া ফিরিয়া বাস করিতে দেখা যায়। ইহাদের প্রধান খাদ্য হইতেছে দুগ্ধ এবং অর্দ্ধসিদ্ধ মাংস। ইহারা ভাত ও গম বড় একটা খায় না। সময় সময় প্রায় একশো মাইল দূরবর্ত্তী কোরলুক জেলা হইতে যে গম আমদানী

৯৬