বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/১১৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পণ্ডিত কিষণ সিংহ

হয় তাহাই কিছু কিছু খায়। অন্যান্য মোঙ্গোলিয়দের মত ইহারাও বেশ অতিথিবৎসল। আমরা ইহাদের নিকট হইতে বেশ ভাল ব্যবহার পাইয়াছিলাম। এই যাযাবরদের জীবন-যাত্রা অতি সহজ। সকালে উঠিয়া দুগ্ধ দোহন করে। ঘোড়ার দুগ্ধই ইহাদের প্রিয় খাদ্য। দুধের মধ্যে সামান্য পরিমাণে অম্ল মিশাইয়া ইহারা এক প্রকার পানীয় প্রস্তুত করে তাহার নাম ‘চেকা’।

 মোঙ্গোলিয় লোকগুলি বেশ বলিষ্ঠ এবং সুগঠিত, স্বভাবও নম্র। ইহারা বড় একটা ঝগড়া বিবাদ করিতে চাহে না। বেশ শান্তিতে জীবন-যাত্রা নির্ব্বাহ করিতেই ভালবাসে। ইহাদের বিবাহ ব্যাপারটা অতি চমৎকার। বর কনেকে দুই বৎসর পর্য্যন্ত বিবাহের জন্য অনুরোধ উপরোধ করে তারপর মতি স্থির হইলে পর উভয় পক্ষের পিতামাতাই উহাদের বাসের জন্য একটি তাঁবু প্রস্তুত করিয়া দেয়। কিছু দিন পরে একটি বড় রকমের ভোজ দিতে হয়, সেই ভোজে আত্মীয়স্বজন এবং স্বজাতীয়েরা আসিয়া মিলিত হয়। নাচ, গান ও আনন্দ উৎসবের পর বিবাহ পাকা হইল বলিয়া সমাজের সকলে মানিয়া নেয়।

 এ অঞ্চলে চমরী গোরুর সংখ্যা বড় কম। আমরা নৈচিতে পাঁচ দিন ছিলাম। তারপর রওনা হইলাম। আমাদের সহযাত্রী মোঙ্গোলিয় দল এখানে রহিয়া গেল। তাহারা বরফ পরিষ্কার হইয়া গেলে যাত্রা করিবে বলিয়া স্থির করিল। এই শিবিরে

৯৭