পণ্ডিত কিষণ সিংহ
বেড়িয়া পাহাড়—মাঝখানে এই সমতল ভূমি। এখানে অনেক যাযাবরকে দেখিতে পাইলাম। একটী গোলাকার উচ্চ জমির উপরে সারি সারি তাঁবু পড়িয়াছে। তাঁবুর সম্মুখে লোহার চুল্লিতে আগুন জ্বলিতেছে। এখানে জ্বালানি কাঠ এবং ঘাস প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
আমরা পরের দিন নদীর বাম তীর ধরিয়া ক্রমাগত চলিতে লাগিলাম। পথের দৃশ্য বেশ সুন্দর—দূরে দূরে উচ্চ গিরিশৃঙ্গসমূহ দেখা যাইতেছিল। তাহাদের অধিকাংশই বরফে ঢাকা। আমরা ৭ই, ৮ই এবং ৯ই নভেম্বর ক্রমাগত কখনও নদীর দক্ষিণ কখনও বা বাম তীর ধরিয়া চলিতে চলিতে একটী বিস্তৃত বালুকাময় প্রান্তরের মধ্যে আসিয়া পড়িলাম। এখানে গাছপালার চিহ্নমাত্রও দেখা গেল না। এই প্রান্তরের ভিতর দিয়াই পথ—একস্থানে দেখিলাম দুইটী নদী আসিয়া মিলিয়াছে। নদীর ভিতরে জল নাই বলিলেই চলে, বোধ হয় এই জন্যই এখানে গাছপালা কিছুই নাই। দূরে দূরে মাঝে মাঝে পথের পাশে এক প্রকার গাছ দেখিতে পাইলাম। গাছগুলি তিন ফিটের বেশী উঁচু হইবে না, এ অঞ্চলে পশুরা এই গাছের পাতা খাইয়াই কোনরূপে জীবন ধারণ করে।
আমরা এই পথে প্রায় পাঁচ মাইল পথ চলিয়া একটী পাহাড়ের চূড়ায় আসিয়া পড়িলাম। এই পথে খানিকক্ষণ
৯৯