পণ্ডিত কিষণ সিংহ
একান্ত সৌভাগ্যবশতঃ তৃণরাজি পরিপূর্ণ এবং এ অঞ্চলের স্বাভাবিক ছোট ছোট গাছপালায় ভরা ছিল। সেজন্য পশুদের খাদ্য ও জ্বালানি কাঠের কোনও অভাব হয় নাই। আমরা শুনিলাম এখান হইতে পাঁচ মাইল দূরে মোঙ্গোলীয় যাযাবরেরা বাস করে। জায়গাটির নাম গোলমো। গোলমো ঘন বনে পরিপূর্ণ স্থানে অবস্থিত। সেই বনটী ছয় মাইল প্রশস্ত এবং একশত মাইল দীর্ঘ হইবে। এই বনের গাছগুলিকে মোঙ্গলীয়রা হুম্বু, হার্ম্মো এবং চাক বলে। এই তিন জাতীয় গাছই বনের মধ্যে দেখিতে পাওয়া যায়। গাছগুলি ছয়-সাত ফিটের বেশী উঁচু হয় না। হর্ম্মো গাছে এক প্রকার কালো বা লাল ফল হয়। এই ফল দেখিতে মন্দ নয়, অনেকটা কিস্মিস্ বা মনাক্কার মতন গন্ধবিশিষ্ট। নভেম্বর মাসে এই ফল সংগ্রহ করা হয়। খাবার জন্য এবং বাণিজ্য বেসাতি করিবার জন্যই উহা সংগৃহীত হইয়া থাকে। এই বনের সর্ব্বত্র খুব লম্বা ঘাসে ঢাকা। গোটা পঞ্চাশেক তাঁবু এই বনভূমিতে পড়িয়াছিল। এখানে আমরা যে মোঙ্গোলীয় যাযাবরদের দেখিলাম তাহারা সকলেই বেশ মোটাসোটা এবং শক্তিশালী। ইহাদের ওষ্ঠ বেশ পুরু এবং গায়ের রঙ পীতাভ। ইহাদের ধনসম্পদ হইতেছে গৃহপালিত পশু; যেমন—ভেড়া, ছাগল, উট টাট্টু ঘোড়া এবং গোরু। এই ভেড়াগুলি দেখিতে অদ্ভুত রকমের।
১০১