পণ্ডিত কিষণ সিংহ
দস্যুর কবলে
আমরা পাঁচদিন পর শিকার হইতে ফিরিলাম এবং স্থির করিলাম পরের দিন সকাল বেলা অর্থাৎ ৫ই ডিসেম্বর প্রাতে এই স্থান পরিত্যাগ করিব। পরের দিন যাত্রার জন্য প্রস্তুত হইতেছি এমন সময়ে চিয়ামো-গোলোক জাতীয় প্রায় দুই শত অশ্বারোহী দস্যু আমাদিগকে আক্রমণ করিতে আসিল। আমরা এইরূপ অতর্কিত আক্রমণের আশঙ্কা করি নাই, কাজেই কি যে করিব সহসা ভাবিয়া ঠিক করিতে পারিলাম না। তাড়াতাড়ি উহাদের আক্রমণ-গতি প্রতিরোধ করিবার জন্য স্থানীয় লোকদের সহিত পরামর্শ করিয়া অল্প সময়ের মধ্যে যতটা সম্ভব প্রস্তুত হইলাম।
প্রথমতঃ দূর হইতে উভয় পক্ষেই বন্দুক ছোঁড়াছুঁড়ি হইল কিন্তু দস্যুদল তাহাতে নিরস্ত না হইয়া অতি দ্রুত বর্শা ও তরবারি লইয়া আমাদের দিকে ছুটিয়া আসিতে লাগিল। আমাদের গুলিতে দস্যুদলের একজন নিহত হইয়াছিল কিন্তু তাহারা সেদিকে কোন লক্ষ্য না করিয়া অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে আমাদের উপর আসিয়া পড়িল। আমাদের এমন ক্ষমতা ছিল না যে হাতাহাতি করিয়া আত্মরক্ষা করিতে পারি। তারপর লোকসংখ্যায়ও অত্যন্ত অল্প ছিলাম। সুতরাং প্রাণ বাঁচাইবার জন্য আমরা জিনিষ-পত্র সব ফেলিয়া পলায়ন করিলাম।
১০৯