হিমালয়-অভিযান
দস্যুদল আসিয়া আমাদের তাঁবুগুলি আক্রমণ করিল। জিনিষপত্র সব ছিন্ন ভিন্ন এবং লুঠ-পাট করিয়া লইয়া গেল। আমাদের যথাসর্ব্বস্ব ইহারা আত্মসাৎ করিয়াছিল। দস্যুরা এইভাবে লুণ্ঠন করিয়া চলিয়া যাইবার পর স্থানীয় অধিবাসীরা এবং অদূরবর্ত্তী শিবিরের সব যাযাবরেরা আসিয়া আমাদের সাহায্য করিবার জন্য উপস্থিত হইল। দস্যুরা যে পথে গিয়াছিল আমরা সেই পথ ধরিয়া চলিতে লাগিলাম। সন্ধ্যা পর্য্যন্ত এইরূপ অনুসন্ধান চলিল কিন্তু তাহাতে কোনও ফল হইল না। পরের দিন আমাদের অনুসরণের ফলে কিছু সুফল হইয়াছিল। প্রায় পঞ্চাশটী ঘোড়া ফিরিয়া পাওয়া গেল। তাহাদের অধিকাংশই ছিল খোঁড়া এবং কাজের অনুপযুক্ত। দস্যুরা ঐসব অক্ষম কাজের অনুপযুক্ত ঘোড়াগুলি লইয়া যাওয়া অনাবশ্যক মনে করিয়াই বোধ হয় পথে ছাড়িয়া দিয়াছিল।
এখান হইতে যাত্রীদল সব বিচ্ছিন্ন হইয়া গেল। মোঙ্গোলীয়রা যে যাহার বাড়া চলিয়া গেল তাহা পূর্ব্বেই বলিয়াছি। তিব্বতীয়দের মধ্যে কেহ কেহ আর অগ্রসর হওয়া সঙ্গত মনে না করিয়া লাশার দিকে ফিরিয়া গেল। কেহ কেহ তেঙ্গেলিকেই রহিয়া গেল। আমরা এখানে আমাদের তিব্বতীয় ভৃত্যদের বিদায় দিলাম কারণ তাহাদের আর কোন প্রয়োজন ছিল না। আবার নূতন পথে যাত্রার ব্যবস্থা করিতে প্রবৃত্ত হইলাম।
১১০