পণ্ডিত কিষণ সিং
মোঙ্গোলীয়দের দেশে
১৩ই ডিসেম্বর। নানা গোলমালের ভিতর দিয়া এ কয়দিন কাটিয়া গেল। তিনটি বলদ ভাড়া করিয়া আবার যাত্রা আরম্ভ করিলাম। তেঙ্গেলিকের কয়েকজন বন্ধু পথে যাহাতে আমাদের কোনও অসুবিধা না হয় সেজন্য কিছু মাংস, মাখন এবং খাদ্যদ্রব্যাদি দিলেন—এমন কি জিনিষপত্রাদি বাঁধিয়া লইবার জন্য চামড়ার দড়িও দিয়াছিলেন। এইবার বেশ উপযুক্ত ব্যবস্থা করিয়া যাত্রা শুরু করা গেল। প্রায় ছয় মাইল পথ চলিয়া হাড়োরি নামক একটি জায়গায় আসিলাম। এখানে যাযাবরদের বারোটি শিবির ছিল। আমরা এখানে একদিন থাকিতে বাধ্য হইলাম, কারণ কথা ছিল যে বলদগুলির মালিকেরা এখানে আসিয়া আমাদের সঙ্গী হইবে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি মত তাহারা আসিয়া পৌঁছিল না।
১৫ই ডিসেম্বর। আমরা আবার চলিতে আরম্ভ করিলাম। ক্রমাগত উত্তর দিকে চলিতে লাগিলাম। এই ভাবে কয়েক মাইল যাইবার পর দেখা গেল দূরে একটা পাহাড়ের নীচে মোঙ্গোলীয়রা কাঁচা দেওয়াল দিয়া অনেকটা জায়গা ঘিরিয়া রাখিয়াছে। এখান হইতে প্রায় তিন চার মাইল দূরে চারিটি গিরিশৃঙ্গ নজরে পড়িল। এই শৃঙ্গগুলির চূড়ায় শাদা বরফ এক অপূর্ব্ব সৌন্দর্য্যের সৃষ্টি করিয়াছে। প্রায় তেরো মাইল পথ চলিয়া দেবাসুথা নামক একটি জায়গায় আসিয়া রাত্রি কাটাইলাম।
১১১