হিমালয়-অভিযান
এখানে চারিটি যাযাবর পরিবার তাঁবু ফেলিয়া বাস করিতেছিল। আমরা যে পথে আসিতেছিলাম সেই পথ বালুকাকীর্ণ ছিল।
সোণার পাখী
১৬ই, ১৭ই এবং ১৮ই তারিখ এ কয়দিন আমাদের বাইগোল নদীর তীর ধরিয়া চলিতে হইয়াছিল। নদীর জল কোথাও দুই ফিটের বেশী গভীর নয়। এই নদী দশ হাতের বেশী প্রশস্ত হইবে না। শোনা গেল বাইগোল নদী ক্রমাগত উত্তর-পশ্চিম দিকে বহিয়া যাইয়া অবশেষে কোন্ অজানা মরুভূমির বুকে মিলাইয়া গিয়াছে। আমাদের কাছে কিন্তু এবারকার পথটি বেশ ভালই লাগিয়াছিল, কেননা—এইবার পথের দুইদিকে ছিল বন-জঙ্গল। আর ছোট ছোট পাখীর ঝাঁক দেখিয়াছিলাম অসংখ্য। আমি একটি পাখীর কথা বলিতেছি সেই পাখীর মত পাখী তিব্বত ও মোঙ্গোলিয়ার পথে আর কখনও দেখি নাই। এই পাখীটি ‘স্বর্ণ-জীবঞ্জিব’ (Golden Pheasant) পাখীর মত। এই পথে বনের ধারে আমি কিন্তু বহু সংখ্যক এই জাতীয় পাখী দেখিয়াছিলাম।
আমরা এই সুন্দর বনপ্রদেশে দুই দিন দুই রাত্রি অতিবাহিত করিয়াছিলাম। চারিদিকের দৃশ্য যেমন সুন্দর তেমনই এ-স্থানের নীরবতাও আমাদিগকে পুলকিত করিয়াছিল।
১১২