পণ্ডিত কিষণ সিংহ
কোনও হিংস্র জন্তুর ভয় এখানে ছিল না কাজেই সবুজ ঘাসের বিস্তৃত মাঠের মধ্যে গোরুগুলি মনের সুখে চরিয়া বেড়াইতেছিল।
আমরা ১৮ই তারিখে এইস্থান ছাড়িয়া দক্ষিণ-পূর্ব্ব দিকে চলিতে লাগিলাম। পথের মধ্যে অনেক নদী পড়িল। এইসব নদী আমাদের পার হইতে হইয়াছিল। নদীর জল লোণা—কোন নদীই তেমন গভীর নহে। কোথাও দুই তিনটি নদী আসিয়া একসঙ্গে মিলিত হইয়াছে কিন্তু একটির জলও সুমিষ্ট নহে। এইজন্য যাযাবরেরা বড় একটা এখানে আসিয়া বাস করে না। কেননা যোজনের পর যোজন পথ চলিলেও পানীয় জল পাইবার কোনও সম্ভাবনা নাই।
শীতকালের কথা বলিতেছি। শীতের সময় যখন বরফে চারিদিক ঢাকিয়া ফেলে সে সময়ে বরফের নীচ হইতে যা কিছু সামান্য সুমিষ্ট জল পাওয়া যায় তাহাই হয় শীতের দিনের এই পথের যাত্রীদের একমাত্র পানীয় সম্বল। এখানকার নদীগুলিও ক্রমাগত পশ্চিম দিকে বহিয়া চলিয়া অবশেষে মোঙ্গোলিয়ার দিকে কোন্ এক অজ্ঞাত মরুভূমির বালুকারাশির মধ্যে আপনাদের স্রোতোধারা হারাইয়া ফেলিয়াছে। আমরা এই পথে চলিতে চলিতে একটি ছোট নদী পার হইয়া এক অনুচ্চ গিরিবর্ত্মে আসিয়া পৌঁছিলাম।
১১৩