বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/১৩৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পণ্ডিত কিষণ সিংহ

করে। ইহারা এতদূর অসভ্য ও বর্ব্বর যে শিকার করিবার মত অস্ত্রশস্ত্রও ইহাদের নাই। এই বুনোরা ঝরণার ধারে শিকার করিবার জন্য মাটিতে শুইয়া গোপনে আড়ি পাতিয়া তীক্ষ্ণ-দৃষ্টিতে শিকারের অপেক্ষা করে এবং যখন কোন শিকার দেখিতে পায় তখন অতিশয় ক্ষিপ্রতার সহিত তাহার উপর ঝাঁপাইয়া পড়িয়া মারিয়া ফেলে। বুনোরা না খায় এমন জন্তু নাই। এমন কি ইন্দুর, টিক্‌টিকি, গিরগিটি ও অন্যান্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণীর মাংস খাইতেও ইহারা দ্বিধা করে না।

 এই বুনোরা এত দ্রুত চলিতে পারে যে একজন ঘোড়সোয়ার অতি দ্রুত ঘোড়া চালাইয়াও উহাদিগকে ধরিতে পারে না। ইহারা কোনও সভ্য লোককে দেখিলেই ভয়ে পলাইয়া যায়। এই বর্ব্বর লোকেরা চকমকির সাহায্যে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত করে এবং তাহারা যে সকল পশু-পক্ষী মারে তাহাদিগকে অগ্নিতে ঝল্‌সাইয়া লইয়া খাইয়া ফেলে। ইহারা সময় সময় পাথরের অগ্রভাগ ছুঁচালো করিয়া তাহা দিয়া বন্যপশু শিকার করে। সময় সময় ইহারা গোচারণ ক্ষেত্র হইতে ভেড়া, ছাগল প্রভৃতি চুরি করিয়া লইয়া যায় তবে সে খুব বেশী করে না।

 এই অঞ্চলে শ্যামোয় চমরি গোরু, নেকড়ে বাঘ, খরগোশ, ধূসর ভালুক, ব্যাকট্রিয়া দেশীয় উট এবং ঘোড়া প্রভৃতি জীবজন্তু বন্য অবস্থায় বিচরণ করিতে দেখিতে পাওয়া যায়। এ-সম্বন্ধে

১২১