বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/১৪১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পণ্ডিত কিষণ সিংহ

দেওয়াল ঘেরা একটি বাড়ীর মধ্যে লামা বাস করেন। লামাকে এস্থানের অধিবাসীরা অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে। সকলেই তাঁহার উপদেশ মত চলাফেরা করে। যদিও এখানকার লোকেরা চাষবাস করে না তবু তাহাদের অবস্থা মোটের উপর ভাল। সকলেই কিছু না কিছু ব্যবসায়-বাণিজ্য করিয়া অর্থ উপার্জ্জন করে। ছাগল, ভেড়া, গোরু, ঘোড়া, উট এবং ভেড়ার লোমের বিনিময়ে তাহারা সাইতু, নাই চি এবং নাহুলি প্রভৃতি স্থান হইতে খাদ্যদ্রব্যাদি সংগ্রহ করে। ইহাদের বাসন বা আসবাবপত্র চীনদেশ হইতে আসে। অন্যান্য মোঙ্গোলিয়দের মত ইহাদের খাদ্য একই প্রকারের। এখানকার স্ত্রী-পুরুষের পোষাকও প্রায় এক ধরণের। লম্বা পাজামা, আর গায়ের জামা আমাদের দেশের চোগার মত দেখিতে। এইসব গায়ের জামা ও পরিবার পাজামা প্রভৃতি চামড়া ও পশম দিয়া তৈরি হয়। আমরা ইহাদের নিকট বেশ ভাল ব্যবহারই পাইয়াছি। এখানকার লামার সহিত কেহ সাক্ষাৎ করিতে গেলে তাঁহার নিকট হাঁটু গাড়িয়া বসিয়া তাঁহাকে ‘খাতক’ নামক বস্ত্র উপহার দিতে হয়।

 আমাদের সঙ্গে যে সামান্য পরিমাণ পণ্যদ্রব্য ছিল তাহা অতি সহজেই এখানে বিক্রী হইয়া গেল। আমাদের সঙ্গী গঙ্গারাম এখান হইতে আমাদের সঙ্গে যাইতে চাহিল না। সে শুনিয়াছিল চীনের সম্রাটের সঙ্গে হুহুদের অর্থাৎ চীনের মুসলমানদের যুদ্ধ

১২৩