পণ্ডিত কিষণ সিংহ
চাউল এখানে অত্যন্ত দুর্ম্মূল্য। ইয়ারকন্দ হইতে এখানে চাউল বিক্রয়ের জন্য আসে। সাইতুতে অল্প মূল্যে প্রচুর পরিমাণে শাকসব্জি এবং ফলমূল পাওয়া যায়। ফলের মধ্যে আপেল, নাস্পাতি, শসা, তরমুজ, পেয়ারা, মালবেরি, বাদাম, মূলা, আলুবখ্ড়া, ভূত, আখ্রোট, গাজর, শালগম, সরিষা প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে মিলে। এদেশে আখের চাষ হয় না। তবে উত্তর দেশ হইতে এক প্রকার খাদ্য আসে যাহা মধু-পিষ্টক নামে অভিহিত হয়। এখানে এক প্রকার কার্পাসের চাষ হয় তাহার তূলা হইতে যে সূতা প্রস্তুত হয় তাহা দিয়া মোটা কাপড় প্রস্তুত হইয়া থাকে। সম্প্রতি চীন সম্রাটের একজন কর্ম্মচারী এখানে আসিয়া রেশমের বা পশমী কাপড় প্রস্তুত করিবার ব্যবস্থা করিয়া দিয়া গিয়াছেন। এখানকার খাদ্যের মধ্যে প্রধান খাদ্য হইতেছে রুটি, তরকারি, শাক ভাজা, মাংস এবং দুধ। ভেড়া, এবং মুরগী প্রায় প্রত্যেক বাড়ীতেই লোকে পালে। কেন-না এদেশের লোকের কাছে মুরগীর মাংস ও ভেড়ার মাংস বিশেষ প্রিয় এবং প্রধান খাদ্য বলিয়া বিবেচিত হয়।
সাইতুর জলবায়ু বেশ ভাল কতকটা ইয়ারকন্দের মত। এখানকার লোকেরা মোঙ্গোলিয়দের মত মোটা কিম্বা বলিষ্ঠ নহে। এখানকার পুরুষ ও মেয়েরা নীল, কাল এবং শাদা রংয়ের পোষাক পরে। শোক-প্রকাশের জন্য শাদা পোষাক ব্যবহৃত
১২৭