পণ্ডিত কিষণ সিংহ
প্রতি এই আদেশ দিলেন যে আমরা যতদিন পর্য্যন্ত আমাদের ব্যবহার দ্বারা তাঁহাকে সন্তুষ্ট করিতে না পারিব ততদিন আমাদিগকে ঐখানে বন্দী থাকিতে হইবে। তিনি আমাদিগকে স্থানীয় একজন ধনী ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে রাখিয়া দিলেন।
এ-দেশে ঘোড়া ক্রয় করা অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ বলিয়া আমরা আমাদের সঙ্গীয় ঘোড়াটিকে বিক্রয় করিয়া দিলাম। কেন-না কতদিন পর্য্যন্ত বন্দী অবস্থায় থাকিতে হইবে সে-বিষয়ে ত কিছুই জানিতাম না। আমরা এখানে জীবিকা নির্ব্বাহের জন্য ফল বিক্রয়ের ব্যবসায় আরম্ভ করিলাম। এদেশে একপ্রকার অদ্ভুত পীড়া দেখিলাম। তাহার নাম “বাম্”। এই ব্যারামে পায়ে এক প্রকার লাল লাল চাকা চাকা দাগ হয়। ইহার বেদনা এত দূর যন্ত্রণাদায়ক হয় যে কেহ এইরোগে আক্রান্ত হইলে সে আর দাঁড়াইতেও পারে না, পথ-চলা ত দূরের কথা। আমি এই ব্যারামে যে কষ্ট পাইয়াছিলাম তাহা বলিয়া বোঝান কষ্টকর। রোগের প্রথম হইতে ইহার চিকিৎসা না করিলে পা দু’খানি চিরদিনের মত অচল হইয়া পড়ে। আমি মূলার রস ব্যবহার করিয়া বেশ ভাল ফল পাইয়াছিলাম। প্রায় সাত মাস পরে আমাদের একজন পরিচিত তিব্বতীয় বন্ধু সির্থ্যাংয়ের নিকটবর্ত্তী কুথোং নামক স্থানের এক সহস্র দেবমূর্ত্তি দেখিবার জন্য আসিয়াছিলেন। তিনি আমরা যে ধনী ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে ছিলাম তাঁহার সহিত
১২৯