বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/১৫৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

কিন্‌থাপ

সাংপো নদী আসামের প্রান্তভাগ হইতে লম্বালম্বি দক্ষিণাভিমুখী হইয়া ভারতবর্ষে আসিয়া পড়িয়াছে। সেকালের জরিপ বিভাগের কর্ত্তারা এবং বৈজ্ঞানিকেরা তাহাদের কথায় বিশ্বাস করিলেন না।

 পূর্ব্বেই বলিয়াছি যে কিন্‌থাপের শিরায় শিরায় প্রবাহিত ছিল দুর্জ্জয়কে জয় করিবার মত উষ্ণ রক্তধারা। কোন বিপদেই তাঁহার মন ভাঙ্গিয়া পড়িত না। মৃত্যু-ভয় তাঁহার ছিল না, অজানাকে জয় করিবার দুর্দ্দমনীয় আকাঙ্ক্ষা তাঁহাকে কিছুতেই পিছু হটাইত না। তিনি নিমসিংয়ের কাছে জরিপ করিতে শিখিয়াছিলেন। কিন্‌থাপ আবার সাংপো নদীর উৎস সন্ধানে যাত্রা করিলেন। এইবার তাঁহার সহযাত্রী হইলেন একজন চীন দেশীয় শ্রবণ বা লামা। এই লামা পূর্ব্বে তিব্বতের এক বৌদ্ধ-বিহারে ছিলেন, দৈবক্রমে ভারতীয় জরিপ বিভাগে আসিয়া পড়েন। কিন্‌থাপকে এইবার বলা হইয়াছিল যে তিনি যেন নির্ভীকভাবে সাংপো নদীর গতিপথের অনুসরণ করিয়া কেবলি অগ্রসর হইতে থাকেন। যদি তিনি নির্দ্ধারিত সময়ের মধ্যে ভারতে ফিরিয়া না আসেন, তবে যেন প্রত্যহ ৫০ খানি করিয়া ৫০০ খানি কাঠের টুকরা নদীর স্রোতের মধ্যে ফেলিয়া দেন, জরিপ বিভাগের লোকেরা নীচের দিকে সেই সব কাষ্ঠ খণ্ডের দিকে লক্ষ্য রাখিবে। এবং তখন তাহারা বুঝিতে পারিবে যে কিন্‌থাপ বাঁচিয়া আছেন কিনা।

১৩৫