বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/১৫৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

অনেকদূর পর্য্যন্ত নীচের দিকে নামিয়া আর একটা পথের সন্ধান করিয়া লইলেন। এইবার তাঁহারা যে গ্রামে আসিলেন, সেখানে আসিয়া চীনা লামাটি বেশ চালাকি করিলেন, তিনি কিন্‌থাপকে জোঙ্গ-পোন্ বা গ্রামের সর্দ্দারের নিকট সামান্য অর্থ গ্রহণে দাসরূপে বিক্রয় করিয়া সে গ্রাম ছাড়িয়া চলিয়া গেলেন। কিন্‌থাপ বুঝিতে পারিলেন যে গ্রামের সর্দ্দার তাঁহাকে সন্দেহের চোখে দেখিতেছে। ইতিমধ্যে তাহার পিস্তলটি এবং একটি কম্পাস ও অন্যান্য কিছু কিছু আস্‌বাব ও যন্ত্রপাতি সর্দ্দার কাড়িয়া লইয়াছিল। এ-জন্য কিন্‌থাপ ভয়ে ভয়ে তাঁহার কাছে অন্য যে একটি দিগ্‌দর্শন যন্ত্র ছিল, তাহা লুকাইয়া রাখিলেন। এ-ঘটনা ঘটিয়াছিল ১৮৮১ সালে। অতি কষ্টে কৌশল করিয়া কিন্‌থাপ এই গ্রামের সর্দ্দারের হাত হইতে উদ্ধার পাইয়াছিলেন।

 এইভাবে মুক্তিলাভ করিয়া কিন্‌থাপ চলিতে চলিতে মার্পুং নামক গ্রামে আসিয়া পৌঁছিলেন। এ-দিককার প্রাকৃতিক দৃশ্য ছিল অতি চমৎকার। অদূরে তুষারমণ্ডিত ধবল গিরিশ্রেণী। অধিত্যকা-প্রদেশে ধানের ক্ষেত ও পিচফলের বাগান। আর একটি সুন্দর পর্ব্বতশৃঙ্গের উপরে ছিল একটি বৌদ্ধ মঠ।

 তারপর কি হইল, সে-কথা আমরা এখানে কিন্‌থাপের নিজের

১৩৮