লালার তিব্বত-যাত্রা
করায় এই পথের সম্বন্ধে লালা যেরূপ বর্ণনা করিয়াছেন তাহা যে অসত্য নহে তাহাই প্রমাণিত হইয়াছে। পণ্ডিত নৈনসিং ১৮৬৫-১৮৭৪ খ্রীষ্টাব্দে তোয়াং আসেন। লালাও তখন তোয়াং আসিয়াছিলেন। এই পথের বর্ণনা উভয়েরই একরূপ।
লালা যখন কাঙ্গরা-লামালা হইতে কামপার (দুর্গের) তিন মাইল দূরে আসেন তখন একদল ঘোড়সোয়ার আসিয়া তাঁহাকে বন্দী করিয়া দুর্গের অধিনায়ক জোঙ্গপোনের নিকট লইয়া গিয়াছিল। জোঙ্গোপন লালাকে দুর্গের বাহিরে একটি ঘরে পনেরো দিন কয়েদ করিয়া রাখিয়াছিলেন। তাঁহার প্রতি কোনরূপ শারীরিক নির্য্যাতন না হইলেও তাঁহাকে মৌখিক নানাপ্রকার ভীতি প্রদর্শন করা হইয়াছিল। এখানে তাঁহার আসিবার উদ্দেশ্য, কোথায় সে যাইবে, কি তাঁর প্রয়োজন ইত্যাদি নানা বিষয়ে প্রশ্নের পর প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিয়া তাঁহাকে ব্যতিব্যস্ত করিয়া তুলিয়াছিল। সিগাৎসির শাসন-কর্ত্তাও তাঁহাকে তিন দিন নজরবন্দী রাখেন ও পরে একজন রক্ষীর লালার প্রতি সন্দেহ হওয়ায় জোঙ্গপোন লালাকে পাঁচ মাস কাল সিগাৎসিতে বন্দী করিয়া রাখিয়াছিলেন। তবে এই বন্দী অবস্থায় তাঁহার যথেষ্ট স্বাধীনতা ছিল, লালা ইচ্ছানুরূপ নগরের নানা স্থানে বেড়াইতে পারিতেন। এই ভাবে সিগাৎসির নানা ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণীর লোকের সহিত আলাপ পরিচয় হওয়ায় লালা
১৪৭