হিমালয়-অভিযান
তিব্বতীয় রাজপুরুষের কৃপায় অবশেষে তিনি মুক্তি পাইয়াছিলেন। এই ভাবে বার বার বন্দী হওয়ায় তাঁহার যাত্রাপথে বহু বাধা জন্মায়। তিনি আর অধিক দূর অগ্রসর না হইয়া পুনরায় সিগাৎসির পথে ১৮৭৬ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ্চ মাসে দার্জ্জিলিং ফিরিয়া আসিতে যত্নবান হইলেন।
লালার প্রত্যাবর্ত্তন পথেও তাঁহাকে পুনরায় ফারি নামক স্থানে একমাসকাল বন্দী অবস্থায় থাকিতে হইয়াছিল। এখানে একজন চীন দেশীয় রাজকর্ম্মচারির অনুকম্পায় তিনি মুক্তি লাভ করেন।
লালার এই অভিযানের মধ্যে সর্ব্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য বিষয় হইতেছে—গিয়ামসেনা নামক হ্রদের কথা। লালা এই হ্রদের তীরে বসিয়া একটি আশ্চর্য্য ব্যাপার প্রত্যক্ষ করিয়াছিলেন। প্রতি পাঁচ মিনিট, দশ মিনিট অন্তর হ্রদের গর্ভ হইতে বজ্রধ্বনির ন্যায় এক শব্দ শুনিতে পাওয়া যায়। লালা প্রায় চারি ঘণ্টাকাল এই হ্রদের তীরে বসিয়াছিলেন—এই চারি ঘণ্টাকালই তিনি বার বার ঐরূপ ভাবে হ্রদের ভিতর হইতে বজ্র-নির্ঘোষের ন্যায় শব্দ শুনিতে পাইয়াছিলেন। আশ্চর্য্যের বিষয় এই যে এই শব্দের সঙ্গে সঙ্গে হ্রদের বুকের সলিলরাশির কোনরূপ আবর্ত্তন বা তরঙ্গ-উচ্ছ্বাস দেখা যায় নাই। স্থানীয় একজন রক্ষী বা চৌকী লালাকে বলিয়াছিল যে হ্রদের
১৫০