তিব্বতে বাঙ্গালী—শরৎচন্দ্র দাশ
গ্রাফের ক্যামেরা, একটি পকেট সেক্সটাণ্ট বা কোণ-পরিমাপক যন্ত্র, একটি দিগদর্শনযন্ত্র, একটি থার্ম্মোমিটার, একটি দূরবীক্ষণ ও নগদ দেড়শত টাকা মাত্র সঙ্গে লইলেন। মঠে উপহার দিবার জন্য সঙ্গে উপহার দ্রব্যাদিও কিছু কিছু ছিল।
শরৎচন্দ্র এই তিব্বত-যাত্রা সম্পর্কে বলিয়াছেন: “আমার মনে অতি শৈশব হইতেই একটা আকাঙ্ক্ষা ছিল তুষারাবৃত হিমালয় গিরিশ্রেণীর অপর পারস্থিত নিষিদ্ধ নগরী লাশা দেখিব। কোনরূপ রাজনীতির অভিসন্ধি বা অন্যরূপ কোনও উচ্চ আকাঙ্ক্ষাই আমার মনে উদিত হয় নাই। নিষিদ্ধ নগরীতে প্রবেশ করিবার পথে বিপদকে আলিঙ্গন করিবার জন্য এক দুর্দ্দমনীয় উৎসাহ ব্যতীত অন্য কোনরূপ চিন্তা আমার মনে আসে নাই। ঈশ্বরের প্রতীক্ লামাদিগকে দর্শন করিব, তাঁহাদের সহিত নানা বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করিবার দৃঢ় সঙ্কল্প লইয়াই আমি তিব্বত যাত্রা করিয়াছিলাম। সে সময়ে আমার মনে অর্থলাভের আকাঙ্ক্ষা, উচ্চ রাজপদ লাভের প্রলোভন ইত্যাদি কিছুই স্থান পায় নাই।”
“আমি দার্জ্জিলিঙ্গের তিব্বতীয় বোর্ডিং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ গ্রহণ করিবার সময় ১৮৭৪ হইতে ১৮৭৮ খ্রীষ্টাব্দ পর্য্যন্ত তিনবার সিকিম রাজ্যে গিয়াছিলাম। সিকিমে যাইবার পর আমার হৃদয়ে এক অপূর্ব্ব চিত্র প্রতিফলিত হইতে লাগিল।
১৫৫