হিমালয়-অভিযান
আমি যখন উন্মুক্ত প্রান্তরে দাঁড়াইয়া সূর্য্যকিরণোজ্জ্বল নির্ম্মল প্রভাতে হিমালয়ের চিরতুষারাবৃত ধূসর ও বিরাট দিগন্ত প্রসারিত অভ্রশ্রেণীর ভীমকান্ত রূপ ও অবর্ণনীয় সৌন্দর্য্য ও তাহাদের কল্পনাতীত উচ্চতা অবলোকন করিতাম, তখন আমার হৃদয় এক মহান্ ভাবে অভিভূত হইয়া পড়িত। এই অনন্ত হিমারণ্যের অপরিজ্ঞাত পর্ব্বতগুহার নিভৃত নিলয়ে যে সকল ঋষিকল্প লামাসন্ন্যাসীগণ অবস্থান করিতেছেন, তাঁহাদিগের পুণ্যধামে যাইবার জন্য মনোমধ্যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগরিত হইত। আমার মনে অপরিজ্ঞাত ও অশ্রুতপূর্ব্ব বৌদ্ধ-মঠের অভ্যন্তরে সযত্ন রক্ষিত প্রাচীন ভারতের অমূল্য সাহিত্য-রত্নের আবিষ্কারের জন্য গভীর আকাঙ্ক্ষা জাগিয়া উঠিত। যখনই আমি শুভ্রতুষারবিমণ্ডিত গৌরীশঙ্কর ও কাঞ্চনজঙ্ঘার অত্যুঙ্গ শিখরের দিকে চাহিয়া তিব্বতের সুনীল গগন প্রান্তের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিতাম, তখনই তিব্বতের মঠবাসী দেবকল্প লামা ও তাঁহাদিগের পবিত্র বিহারসমূহ দেখিবার জন্য চিত্ত ব্যাকুল হইয়া পড়িত। মনে মনে ভাবিতাম বিধাতা কি আমার এই প্রাণের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করিবেন না?”
“তিব্বতীয় বোর্ডিং বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করিবার সময় আমি লামাদের সম্পর্কে কয়েকখানি গ্রন্থ অধ্যয়ন করিয়াছিলাম। সেই সকল গ্রন্থে একাদশ খ্রীষ্টাব্দের মহাত্মা অতীশ ও অন্যান্য কয়েক
১৫৬