হিমালয়-অভিযান
গভর্ণমেণ্টের অনুমতি লাভ করিয়া কলিকাতা আসিয়া ভারতীয় সার্ভে অফিসে জরিপ-সংক্রান্ত নানাবিধ কার্য্য শিক্ষা করিয়া পর বৎসর জুন মাসে তিব্বত যাত্রা করিলাম।”
শরৎচন্দ্র এই বার নিশ্চিন্ত হইয়া লামা উগায়েনগিয়াৎসুর সহিত ১৮৭৯ খ্রীষ্টাব্দের জুন মাসে তিব্বত-যাত্রা করেন। তাঁহার সঙ্গে একজন পথপ্রদর্শক ও দুইজন কুলি অনুগমন করিয়াছিল, এইবার তিনি প্রধান মন্ত্রীর অতিথি হিসাবে মাত্র ছয়মাস কাল তিব্বতে ছিলেন। এই ছয়মাস শরৎচন্দ্র তাসিলুনপোর মঠ সংশ্লিষ্ট লাইব্রেরীর গ্রন্থমালা দেখিয়া বিস্মিত হইয়াছিলেন এবং আসিবার সময়ে অনেক সংস্কৃত ও তিব্বতীয় হস্তলিখিত পুঁথি সংগ্রহ করিয়া আনেন। এই যাত্রায় শরৎচন্দ্র লাঞ্চনজঙ্ঘা বা কাঞ্চনজঙ্ঘার উত্তরপূর্ব্বদিকের অনেক অজ্ঞাত প্রদেশ সম্বন্ধে সন্ধান লন। তাঁহার প্রথম বারের যাত্রাপথের পরিচয় ও অভিজ্ঞতার কথা বাঙ্গালা সরকার পুস্তকাকারে প্রকাশ করিয়াছিলেন। স্যার এ্যালফ্রেড ক্রফট্ ঐ গ্রন্থের একটী অতি সুন্দর ভূমিকা লিখিয়া দিয়াছিলেন।
১৮৮১ খ্রীষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে শরৎচন্দ্র দ্বিতীয়বার তিব্বত-অভিযান করেন। এইবারও তাঁহার বন্ধু উগায়েনগিয়াৎসু সঙ্গে ছিলেন। তাঁহারা এ যাত্রায় পলটি বা পালতি নামক হ্রদের জরিপ করেন ও অল্প কিছুকালের জন্য লাশাও গিয়াছিলেন। তাঁহার পূর্ব্বে ১৮৭৬ এবং ১৮৮০ খ্রীষ্টাব্দে যথাক্রমে নইনসিং ও
১৫৮