হিমালয়-অভিযান
অভিযানের মনোনীত নেতা কলম্যান ম্যাকলের সঙ্গে পুনরায় তিব্বত যাওয়ার কথা ছিল। যাত্রার পূর্ব্বে আলাপ ও আলোচনার জন্য শরৎচন্দ্র কয়েক মাস চীনের রাজধানী পিকিং সহরে ছিলেন। তাঁহাকে সেখানকার লোকেরা বলিত—‘কা-চি-লামা বা কাশ্মীরদেশীয় লামা’। শরৎচন্দ্র লামা উগায়েনগিয়াৎসু ও তাঁহার প্রিয় ভৃত্য ফুরচঙ্গকে লইয়া কত তুঙ্গ গিরিশিখর, কত বরফাবৃত উপত্যকা, কত নির্ঝর ও নদী অতিক্রম করিয়া যে তিব্বত পর্য্যটন করিয়াছিলেন তাহা উপন্যাসেরই মত মনোরম। যেদিন তিনি সর্ব্বপ্রথম লাশার মন্দিরসমূহ ও তথাকার মঠের চূড়া দেখিয়াছিলেন, সেদিন তাঁহার চিত্ত আনন্দে ভরিয়া গিয়াছিল। যে পলটি হ্রদের কথা বলিলাম, এই পলটি হ্রদ তাঁহার পূর্ব্বে আর কোন পর্য্যটকের চক্ষে পড়ে নাই। শরৎচন্দ্র ক্রফট্ সাহেবের বন্ধুত্ব ও স্নেহ স্মরণ করিয়া এই হ্রদটির নাম দিয়াছিলেন—ক্রফট্ ইয়ামডো। ইয়ামডো শব্দের অর্থ হ্রদ।
১৮৮৩ খ্রীষ্টাব্দে তিব্বত হইতে ফিরিয়া আসিয়া শরৎচন্দ্র সাহিত্যচর্চ্চায় মনোনিবেশ করেন এবং বহু গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁহার ন্যায় সুপণ্ডিত ও একজন অসাধারণ শ্রমশীল ব্যক্তি খুব কমই দেখা যায়।
শরৎচন্দ্র ১৮৮২ সালে পলটি হ্রদের পরিমাণ সম্বন্ধে যে জরিপ করেন পরবর্ত্তী কালে ঐ হ্রদের চারিদিকে ঘুরিয়া ফিরিয়া
১৬০