তিব্বতে বাঙ্গালী—শরৎচন্দ্র দাশ
যাঁহারা জরিপ করিয়াছিলেন তাঁহারাও শরৎচন্দ্রের জরিপকে প্রায় নির্ভুল বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। পলটি হ্রদের জরিপ ছাড়া, শরৎচন্দ্র লোব্রাক বা মানসসরোবরের নিকটবর্ত্তী উপত্যকা প্রদেশেরও জরিপ করিয়াছিলেন।
গভর্ণমেণ্ট ভারতের এই কৃতী সন্তানকে রায়-বাহাদুর, সি, আই, ই প্রভৃতি উপাধি ভূষণে ভূষিত করিয়া সম্মান প্রদর্শন করেন। শরৎচন্দ্রের স্থাপিত “বৌদ্ধ-শাস্ত্র প্রচার সমিতি” দ্বারা বৌদ্ধ-সাহিত্যের যথেষ্ট আলোচনা হইয়াছিল। তাঁহার সঙ্কলিত তিব্বতীয় ও ইংরাজী ভাষার অভিধান তাঁহাকে অমর করিয়া রাখিবে। তাঁহার ন্যায় তিব্বতীয় ভাষার সাহিত্য, ইতিহাস ও পুরাতত্ত্বে সুপণ্ডিত ব্যক্তি ভারতবর্ষে অতি কমই আছেন।
শরৎচন্দ্র বাল্যকালে প্রথম পড়াশুনা আরম্ভ করেন গ্রামস্থ পাঠশালায়। পরে চট্টগ্রাম ইংরাজী স্কুলে ভর্ত্তি হন। চট্টগ্রাম হইতে এণ্ট্রান্স পাশ করিয়া তিনি কলিকাতায় আসিয়া প্রেসিডেন্সী কলেজের পূর্ত্ত বিভাগে ভর্ত্তি হন। শরৎচন্দ্র যে সকল ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক তথ্য সম্বলিত গ্রন্থাদি সংগ্রহ করিয়া ভারতবর্ষে ফিরিয়া আসেন তাহার দ্বারা দেশের প্রাচীন ইতিহাস উদ্ধারের পথ সুগম হইয়াছে।
শরৎচন্দ্র সিকিম রাজ্যের অন্তর্গত জঙ্গরি নামক স্থান হইতে যাত্রা করিয়া কাঞ্চনজঙ্ঘা গিরিশ্রেণী অতিক্রম করিয়া নেপাল
১৬১