হিমালয়-অভিযান
কোণ কালো রঙে চিত্রিত করিল। খানিক দূর চলিয়া গায়ের গরম কোটটা খুলিয়া ফেলিয়া কুলির হাতে দিলাম। আমার পথপ্রদর্শক অতি দ্রুত চলিতেছিল, আমিও তাহার সহিত সমপদক্ষেপে অগ্রসর হইতেছিলাম। আমাকে পথপ্রদর্শক বারবার সতর্ক করিয়া দিতেছিল—সাবধানে পা ফেলিবেন, পা পিছলাইলে আর রক্ষা নাই, হাজার হাজার ফিট নীচের গভীর খাতে গিয়া পড়িতে হইবে।
এক মাইল পথ ক্রমাগত বরফের উপর দিয়া চলিতে হইল। সম্মুখে কতকগুলি স্তূপাকৃত প্রস্তরখণ্ডের মধ্যে একটি নিশান উড়িতেছিল। পথ-প্রদর্শক বলিল উহা নেপাল ও সিকিমের সীমান্ত রেখা নির্দ্দেশ করিতেছে। আমরা এখানে খানিকক্ষণ বিশ্রাম করিলাম। তারপর আবার পথ চলা শুরু হইল। আবার প্রায় এক মাইল পথ তুষারাচ্ছন্ন পিচ্ছিল সঙ্কটময় পথে অগ্রসর হইতে হইয়াছিল। পাহাড়ের উপর হইতে বরফ গড়াইয়া পড়িতেছিল। এই ভীষণ সঙ্কটময় গিরিসঙ্কটের মধ্য দিয়া ইয়ামচু নামে পার্ব্বত্য নদী বহিয়া আসিয়াছে। আমাদের পথপ্রদর্শক বলিল—এই নদী অতিশয় বেগশালিনী, প্রতি বৎসর সেতু ভাঙ্গিয়া কত মানুষ ও পশ্বাদির যে মৃত্যু ঘটে তাহা নির্দ্দেশ করা সুকঠিন। নদী বহিয়া চলিয়াছে কোন্ সে আদি যুগ হইতে তাহা কে বলিবে? বরফ-গলা অতি শীতল জলে পূর্ণা, বেগবতী এই
১৬৬