তিব্বতে বাঙ্গালী—শরৎচন্দ্র দাশ
নদীকে ভয়ের চক্ষে দেখিলাম। এই প্রলয়ঙ্করী গিরি-নদীকে নেপালি ও ভুটিয়ারা পূজা করিয়া থাকে।
এই ভাবে চলিতে চলিতে আবার একটি অধিত্যকার দিকে অগ্রসর হইলাম। অবতরণ পথটি ছিল বড়ই বন্ধুর। পথপ্রদর্শক আমাকে হাত ধরিয়া নিরাপদ স্থানে লইয়া আসিল। কুলিরা সকলে বিশ্রাম করিতে বসিল। কাঙ্গালাপর্ব্বতশ্রেণীর এই দিকের পাহাড়গুলি লাল বেলেপাথরে গঠিত। আমরা এখান হইতে আরও পাঁচ মাইল পথ চলিয়া একটি বিস্তৃত সমতল ভূমিতে আসিলাম। এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য অতি রমণীয়। নানা শ্যামল তরুশ্রেণী এখানে শোভা পাইতেছে। সবুজ ঘাসে অধিত্যকাটি শোভাময়। এই মনোরম স্থানটির নাম কুর-পা-বা কার্পু। এখান হইতে কিছু দূরে ইয়ামপাঠসালে নামক একটি গ্রামে গিয়া আশ্রয় লইলাম। এখানে দীর্ঘকায় বহু দেবদারু তরু শোভা পাইতেছিল। তা ছাড়া রোডোডেনড্রেন, জুনিপার, বার্চ এবং লার্চ জাতীয় তরুশ্রেণী চারিদিকে বিদ্যমান ছিল। সন্ধ্যার সময় আমরা একটি সরাইয়ে যাইয়া পৌঁছিলাম। লামা উগায়েনগিয়াৎসু এখানে আসিয়া অসুস্থ হইয়া পড়িলেন। পথপ্রদর্শক আমাদের খাওয়ার জন্য দু’টি ভাত রাঁধিয়াছিল। আর মাখন দিয়া চা তৈরি করিয়াছিল। সারা দিনের কঠিন পরিশ্রমের পর এইরূপ আহারে শরীর অনেকটা সুস্থ হইয়াছিল। আমরা
১৬৭