বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/১৮৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

এখানে একদিন বিশ্রাম করিয়া পরের দিন অতি প্রত্যূষে আবার যাত্রা কারম্ভ করিলাম।

 ২২শে জুন। আমরা ইয়ালুং নদী পার হইয়া একটি দুরারোহ চড়াইয়ে উঠিতে লাগিলাম। এই চড়াইটি প্রায় ২,৫০০ ফিট খাড়া হইবে। বেলা দ্বিপ্রহরের সময় আমরা পাহাড়ের উপর উঠিলাম। এই গিরিশৃঙ্গটির নাম চুঞ্জারমা। চুজারমা গিরিশৃঙ্গের উপর দুইটি ছোট ছোট হ্রদ আছে। বড়টির বেড় ৫০০ ফিটের বেশী হইবে না। ইয়ালুং নদী এবং মাতারাচু নদীর মধ্যবর্ত্তী স্থানে আমাদের চারিটি অতি কঠিন চড়াই পার হইতে হইয়াছিল। উহার মধ্যে মির্কেন-লা, পাঙ্গোলা হইতেছে সব চেয়ে উঁচু। উহাদের উচ্চতা ১২,০০০ হইতে ১৪,০০০ ফিটের কম হইবে না।

 আমরা এই গিরিশৃঙ্গ কয়টি উত্তীর্ণ হইয়া একটি অতি সুন্দর গ্রামে আসিয়া পৌঁছিলাম। ছোট একটি নদী গ্রামের মধ্য দিয়া বহিয়া গিয়াছে। তিন দিকে পর্ব্বতশ্রেণী মাথা তুলিয়া দাঁড়াইয়া আছে। রক্তদ্রোণ, জুনিপার, দেবদারু প্রভৃতি তরুশ্রেণীর গভীর বন গাঢ় শ্যামল শোভায় শোভা পাইতেছে। আমাদের পথপ্রদর্শক তাঁহার বন্ধু একজন স্থানীয় “সেরপা”র (নেপালি বা ভুটিয়া কৃষক) সহিত পরিচয় করিয়া দিলেন। তিনি আমাদিগকে তাঁহার বাড়ীতে লইয়া

১৬৮