তিব্বতে বাঙ্গালী—শরৎচন্দ্র দাশ
গেলেন। আমার পোষাক-পরিচ্ছদ, লামা টুপি, এবং আমার আর্য্যজনোচিত আকৃতি দেখিয়া তাঁহারা আমাকে ‘পাবু’ বা নেপালি নামা বলিয়া মনে করিয়া লইয়াছিলেন। আমি কে, কোথা হইতে আসিতেছি, এ-সকল বিষয়ে কোনও প্রশ্ন না করিয়া ‘সোর-পা’ আমাকে তাঁহাদের বাস-গৃহের মধ্যে চমরী গোরুর রোমে নির্ম্মিত অতি সুন্দর আসনখানিতে বসাইয়া অতি বিনীতভাবে অভিবাদন করিলেন। গ্রামের লোকেরা আমাকে কৌতূহলভরে দেখিতে লাগিল। আমার নাম, জাতি, ভ্রমণের উদ্দেশ্য ইত্যাদি সম্পর্কে কেহ একটি প্রশ্নও করিল না। সঙ্গীয় লামা উগায়েনগিয়াৎসু তাহাদের মনের ভাব বুঝিতে পারিয়াছিলেন, তাই আমাকে ‘বাবু’ বা ‘লামা’ নামে সম্বোধন না করিয়া ‘পাবু লামা’ নামে সম্বোধন করিতে লাগিলেন।
২৩শে জুন। এই গ্রামটির নাম গিয়ানসুর। এখানে একটি বৌদ্ধ মঠ আছে। কাম্বাচান্ নদীর দক্ষিণ তীরে তাসিচোডিং নামক মঠটি অবস্থিত। এই বিহারে ৮০ জন শ্রমণ বাস করেন। পূর্ব্ব নেপাল ও সিকিমের মধ্যে ইহা একটি প্রসিদ্ধ বৌদ্ধ মঠ। এখানকার গ্রন্থশালায় বৌদ্ধ-ধর্ম্ম-গ্রন্থাবলী সযত্নে সংগৃহীত রহিয়াছে। লামাদের মাথায় বড় চুল, কানে দীর্ঘ কর্ণ-বলয়, কতকটা ভারতের আদি যুগের বৌদ্ধ শ্রমণদের মত। আমি এবং লামা উগায়েনগিয়াৎসু দুইজনে একটি একটি করিয়া দুইটি টাকা মঠে প্রণামী
১৬৯