বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/১৮৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

তিব্বতে বাঙ্গালী—শরৎচন্দ্র দাশ

দেওয়া হইয়াছিল। আমরা বৃত্তাকারে ভোজনে বসিয়াছিলাম। আমি চীনদেশের একটি সুশ্রী কম্বল দ্বারা সারা দেহ আবৃত করিয়া বেশ আরাম করিয়া বসিয়াছিলাম। আমি বড় একটা কথা বলি নাই। আমার হইয়া লামা উগায়েনগিয়াৎসুই উত্তর দিতেন। আমি শুধু মাঝে মাঝে—“লা-লা-সো, থুগ-জে-ছে,” অর্থাৎ হাঁ—মশাই আপনাদের বিশেষ দয়া, এইরূপ দুই একটি কথা বলিয়াছি। লামা সব শেষে ভাত ও ভেড়ার মাংস আনিলেন। রান্না অতি উপাদেয় হইয়াছিল। আমরা প্রধান লামাকে দুইজনে পুনরায় দুইটি টাকা প্রণামীস্বরূপ দিয়া ‘সেরপার’ বাড়ী ফিরিয়া আসিলাম।

 ২৫শে জুন। আজ তাসিচোডিং মঠের দ্বিতীয় লামা আমাদের নিমন্ত্রণ করিয়াছিলেন। আমরা তাঁহাকেও দুই জনে দুইটী টাকা নমস্কারি দিলাম। গ্রামের লোকেরা একটি সভা করিয়া আমাদের তিব্বত-যাত্রা-পথে যাহাতে কোনরূপ অসুবিধা না হয় সেজন্য সাহায্য করিতে মনোযোগী হইলেন। ফুরচঙ্গ নামে গিয়ানপুর মঠের একজন শ্রমণকে আমাদের পথপ্রদর্শকরূপে সঙ্গে দিলেন! এই লোকটি গ্রামের মধ্যে সর্ব্বাপেক্ষা বলবান্ ও শক্তিশালী। আমাদের সঙ্গীয় আগের কুলিদের বিদায় দিয়া এখানে নূতন কুলি নিযুক্ত করা হইল। গিয়ানসুর গ্রামটি কাঙ্গচান্ নামক নদীর তীরে অবস্থিত। সাধারণের বিশ্বাস এই নদীটি কাঞ্চনজঙ্ঘার নিম্নতম কোনও গিরিশৃঙ্গ হইতে উৎপত্তি লাভ করিয়াছে।

১৭১