তিব্বতে বাঙ্গালী—শরৎচন্দ্র দাশ
চীনের দিকে আসিতেছেন। কাজেই যেন কোন বণিক্কে বা পর্য্যটককে তিব্বতের পথে অগ্রসর হইতে না দেওয়া হয়। তিব্বতে যাইবার পথটি হইতেছে চেন্মোর গিরিপথ। ঐ চেন্মোর গিরিপথে যাইতেই নিষেধ করিয়াছেন। গিয়ানসুর গ্রামের মঠাধ্যক্ষ লামা আমাদিগকে এই সংবাদ জানাইয়াছেন এবং ইহাও লিখিয়াছেন যে আমাদের পক্ষে উচিৎ হইবে অতি প্রত্যূষে অগ্রসর হওয়া। নচেৎ অগ্রসর হইবার পক্ষে বাধা পাওয়া স্বাভাবিক। গিয়ানপুর মঠের লামার এইরূপ বন্ধু-প্রীতি আমাদিগকে মুগ্ধ করিয়াছিল।
২৬শে জুন। আমরা অল্প রাত্রি থাকিতেই কাংবাচান্ গ্রাম ছাড়িলাম। তাম্বুর নদীর বাম তীরবর্ত্তী পথ ধরিয়া চলিতে লাগিলাম। কিছুদূর যাইয়া একটি পর্ব্বতশৃঙ্গে আরোহণ করিতে আরম্ভ করিলাম। পথটি ছিল বেশ ভাল এবং চড়াইও ছিল সহজ। আমরা যেমন উপরে উঠিতে লাগিলাম তেমনি দেখিতে পাইলাম দক্ষিণে ‘কাঙ্গ চান’ গিরিশ্রেণী শোভা পাইতেছে, আর বামে তুষারমণ্ডিত কাঙ্গপাচান্ গিরিশৃঙ্গ অপূর্ব্ব শ্রীশোভিত। কাঙ্গপাচান্ হইতে তিন মাইল দূরে আমরা একটি জলপ্রপাতের কাছে আসিলাম। জলপ্রপাতটি অতি সুন্দর। এই প্রপাতের জল স্থানীয় অধিবাসীরা অতি পবিত্র বলিয়া মনে করে। তাহারা এই জলপ্রপাতের নাম দিয়াছে ‘ক্ষান-দুম্-চু’ বা পরীদের
১৭৩