বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/১৯৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

তিব্বতে বাঙ্গালী—শরৎচন্দ্র দাশ

অতি কষ্টে ক্রমশঃ উপরে উঠিতে লাগিলাম। কিছুদূর অগ্রসর হইবার পর দেখিতে পাইলাম, তুষারগিরিশ্রেণী উত্তর হইতে উত্তর-পশ্চিম দিকে চলিয়া গিয়াছে। উপত্যকা ভূমি তুষার-স্তূপে সমাবৃত। এ সকল তুষার স্তূপের কোনটিই পঞ্চাশ ফুটের কম নহে। আমার মনে হইল আমরা যেন তুষার-সমুদ্রের মধ্য দিয়া যাইতেছি, আর এই তুষার স্তূপসমূহ যেন সমুদ্রের তরঙ্গ। এই বিরাট তুষার-রাজ্যের তিন মাইল পথ দুঃসহ ক্লেশ সহ্য করিয়া অতিক্রম করিবার পর আমি ক্লান্ত ও শ্রান্তদেহে ভূমিতলে বসিয়া পড়িলাম। বায়ুমণ্ডলের লঘুতা বশতঃ আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের অত্যন্ত কষ্ট বোধ হইতেছিল। আমরা এখন ১৯০০০ ফুটেরও কিছু উর্দ্ধে উঠিয়াছিলাম। এই সুদীর্ঘ ও দুরারোহ পথ অতিবাহনে আমার শ্বাস-প্রশ্বাস যেন বন্ধ হইয়া যাইতেছিল। সূর্য্যকিরণে উদ্ভাসিত তুষাররাশির ঔজ্জ্বল্যে আমাদের চক্ষু যেন ঝলসাইয়া যাইতেছিল, নেত্রপীড়া অনুভব করিতেছিলাম। আমি সবুজ বর্ণের চশমা পরিলাম, তবু অসোয়াস্তি বোধ করিতেছিলাম। আমার জীবনে আমি এইরূপ শোচনীয় অবস্থায় কোনদিন পড়িয়াছি বলিয়া মনে হয় না। লামা উগায়েনগিয়াৎসুর স্থূল কলেবর, কাজেই তাঁহার অবস্থা আমার অপেক্ষাও শোচনীয় হইয়া পড়িয়াছিল। তিনি পথশ্রমে একান্ত কাতর হইয়া আমার পাশে বসিয়া পড়িলেন। আমরা প্রায় অর্দ্ধঘণ্টা কাল

১৭৭