বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/১৯৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

এইরূপ শোচনীয় অবস্থায় তুষাররাশির উপর পড়িয়া রহিলাম। অবশেষে লামা আমাদিগের পথপ্রদর্শক ফুরচঙ্গকে বলিলেন, যদি সে আমাকে কিছুদূর স্কন্ধে করিয়া লইয়া যায়, তাহা হইলে তিনি তাহাকে প্রচুর পুরস্কার দিবেন। পুরস্কারের প্রত্যাশায় ফুরচঙ্গ আমাকে স্কন্ধে করিয়া অর্দ্ধ ক্রোশ পথ লইয়া গেল। তথায় বড় বেশী তুষার ছিল না। আমাকে নামাইয়া দিয়া ফুরচঙ্গ পুনরায় নীচে গিয়া মালপত্র সব লইয়া আসিল।

 এইবার একটু আরাম বোধ করিলাম কিন্তু হিমালয়ের এই নিভৃত তুষারাবৃত শৃঙ্গের উপরত আর বসিয়া থাকিলে চলিবেনা, তাই আবার আমরা চলিতে আরম্ভ করিলাম। সন্ধ্যা ছয় ঘটিকার সময়ও আমরা আমাদের গন্তব্য স্থানে পৌছিতে পারিলাম না। কাছে এমন স্থান কোথাও নাই যে রাত্রির মত আশ্রয় লাভ করিতে পারি। জল নাই, গাছপালা নাই, লোকালয় নাই, পল্লী নাই, মানুষ নাই, কোথায় গিয়া আশ্রয় লইয়া রাত্রি কাটাইব, তাহাই হইল ভাবনার কথা।

 এদিকে তুষারপাতের সঙ্গে সঙ্গে তীব্র শীতল বায়ু বেগে বহিতেছিল। তুষারাচ্ছন্ন ভূমিতলে মুক্ত আকাশতলে ত আর শুইয়া থাকা সম্ভবপর নহে। আমরা একান্ত শঙ্কাকুল চিত্তে চলিতে লাগিলাম। অন্ধকার হইয়াছে, শুধু তুষারের শুভ্র-

১৭৮