বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/১৯৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

তিব্বতে বাঙ্গালী—শরৎচন্দ্র দাশ

দীপ্তি-বিভাসিত ক্ষীণ আলোকে পথ দেখিয়া চলিতেছিলাম। রাত্রি সাতটার সময় আমরা একটা প্রকাণ্ড শিলাস্তূপের কাছে আসিলাম। আমাদের পথপ্রদর্শক বলিল, রাত্রিতে এই প্রস্তর স্তূপের স্থানচ্যুত হইবার সম্ভাবনা নাই। রাত্রিতে তুষার গলিবে না। তবে আমাদের সূর্য্যোদয়ের পূর্ব্বেই এস্থান পরিত্যাগ করা শ্রেয়ঃ। আমরা বরফের উপরই কম্বল বিছাইয়া শয্যা রচনা করিলাম। কাল সারাদিন অনাহারে কাটাইয়াছি, তবু একেবারেই ক্ষুধা ছিল না। ক্লান্তিবশতঃ ঘুমাইয়া পড়িলাম।

 ২৮শে জুন। সূর্য্যোদয়ের পূর্ব্বেই যাত্রা আরম্ভ করিলাম। দিগন্তবিস্তৃত তুষার-সমুদ্র। প্রস্তর স্তূপ, গাছপালা, কিছুই দেখা যাইতেছিল না। আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের অত্যন্ত কষ্ট হইতে লাগিল। এক পা চলি, আবার বসিয়া পড়ি বা শুইয়া পড়ি। হাঁটু পর্য্যন্ত বরফাবৃত পথে বরফরাশি ঠেলিয়া চলিতে হইতেছে। পা দুইটি একেবারে অবশ হইয়া গিয়াছিল। এইরূপ অতি শোচনীয় শারীরিক অবস্থায়ও আমি প্রাণপণে অগ্রসর হইতে চেষ্টা করিলাম। কিন্তু পারিতেছিলাম না। আমার অবস্থা দেখিয়া ফুরচঙ্গ আমাকে আবার কাঁধে করিয়া লইয়া চলিল। তাহাকে আমি আমার সবুজ চশমাটি পরিতে দিলাম। আর আমি অবসন্নভাবে চোখ বুজিয়া তাহার স্কন্ধদেশে চুপ করিয়া বসিয়া রহিলাম। এইভাবে প্রায় এক মাইল পথ চলিয়া আমরা

১৭৯