হিমালয়-অভিযান
জোন্-সাং-লা পর্ব্বতশৃঙ্গের পদতলে আসিয়া পৌঁছিলাম। এখানে তুষার নয় ইঞ্চির বেশী গভীর ছিল না। আমি এইবার আস্তে আস্তে চলিতে লাগিলাম। ফুরচঙ্গ তাহার মালপত্র আনিবার জন্য আবার নীচে নামিয়া গেল। সূর্য্য এ-সময়ে পশ্চিম দিকের গিরিশ্রেণীর অন্তরালে পড়ায় আমাদের চলিতে একটু সুবিধা হইয়াছিল। চলিতে পা পিছলাইয়া পড়িতেছিল, তবু চলিতেছিলাম। আবার এদিকে খুব জোরে তুষার পাত হইতেছিল। সন্ধ্যার প্রাক্কালে প্রায় ছয় ঘটিকার সময় আমরা একটি গুহা পাইলাম। গুহাটি দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে বেশ বড়। খাড়াইও ৬ ফুটের কম নহে। আমাদের পথপ্রদর্শক বলিল,—আমরা দুর্গম তুষার-গিরিপথ উত্তীর্ণ হইয়া আসিয়াছি। ক্রমশঃ আমাদের পথ সুগম ও সহজ হইবে। আমরা গুহার মধ্যে কম্বল বিছাইয়া শুইয়া পড়িলাম। বরফের স্তূপের উপর বিছানা পাতিতে হইল। গুহার ছাতের ফাঁক দিয়া বিন্দু বিন্দু জলাকারে বরফ গলিয়া পড়িয়া ক্লেশদায়ক হইয়াছিল। কাঠ কোথায়? আর কাঠ থাকিলেই বা কিভাবে আগুন জ্বালাইতাম! আমরা এইবার নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্ত্তী দুরারোহ সুদুর্গন চাথাংলা নামক তুষারাবৃত গিরিসঙ্কট অতিক্রম করিয়া জেমু নদীর মালভূমিতে উপস্থিত হইয়াছি। চাথাংলা গিরিবর্ত্ম অতিক্রম কালে যে কিরূপ দুঃসহ ক্লেশ ও অনশনের যন্ত্রণা
১৮০