বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/২০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

নাই যে আমার প্রতি এই তিব্বতীয় লামারা এতটা শ্রদ্ধা প্রদর্শন করিতে পারেন।

 শরৎবাবু আমার মনোভাব বুঝিতে পারিয়াছিলেন, তাই হাসিয়া বলিলেন—‘আপনি বিক্রমপুরের অধিবাসী, লামাদিগকে আমি সে পরিচয় দিয়াছি বলিয়াই তাঁহারা দীপঙ্করের স্বদেশবাসী বলিয়া আপনাকে এইরূপ শ্রদ্ধার সহিত অভিবাদন করিলেন। আমাকেও সুদূর তিব্বত ও চীন প্রবাসে দীপঙ্করের স্বদেশবাসী বলিয়া সকলেই অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মান করিয়াছেন। শরৎ বাবুর মুখে এই কথা শুনিয়া বাঙ্গালাদেশের অধিবাসী বলিয়া আমার হৃদয় গর্ব্বে ও আনন্দে পূর্ণ হইল।

 সেই কবে কত শত বৎসর পূর্ব্বে একজন মানুষের মত মানুষ আমাদের দেশে জন্মগ্রহণ করিয়া হিমালয়-অভিযান করিয়াছিলেন, যাঁহার কীর্ত্তি-কথায় সমস্ত বাঙ্গালী ও ভারতবাসী গৌরব বোধ করিতেছে।

 বাঙ্গালাদেশের প্রাচীন ইতিহাসে-বৌদ্ধজগতে দীপঙ্কর বিশেষ প্রসিদ্ধ ব্যক্তি ছিলেন। কবির কথায় তাঁহার সম্বন্ধে বলা যাইতে পারে:

“বাঙ্গালী অতীশ লঙ্ঘিল গিরি তুষারে ভয়ঙ্কর,
জ্বালিল জ্ঞানের প্রদীপ-তিব্বতে বাঙ্গালী দীপঙ্কর।”

 আমাদের দুর্ভাগ্য তাই দীপঙ্করের নামও ভুলিতে বসিয়াছি।