বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/২০০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

মেষ ও ছাগ চরিতেছে। আমাদের পথপ্রদর্শক এখানে আসিয়া অত্যন্ত ভীত হইল। এই ডোক গিরিপথের রক্ষী প্রহরীর প্রতি আদেশ আছে যদি কেহ এই পথে তিব্বত সরকারের বিশেষ অনুমতি ব্যতীত অগ্রসর হয়, তবে এখানকার রক্ষী প্রহরী ঐরূপ যাত্রীদের যথাসর্ব্বস্ব বাজেয়াপ্ত করিতে পারে। এজন্য সরকার তাহাকে অপরাধী করিবে না। আমাদের এই পথের ‘ছাড়পত্র’ ছিল না। পথপ্রদর্শক ইহা বিশেষভাবে জানিয়াও আমাদিগকে বিপন্ন করিয়াছিল। নিরুপায় আমরা, আমরা আর কি করিব তাড়াতাড়ি একটি গুহার মধ্যে গিয়া লুকাইলাম। সন্ধ্যার সময় অতি সংগোপনে বাহির হইয়া নদী পার হইলাম। জেমি নদীটি বেশ বড় এবং তিনটি স্রোতোধারায় বিভক্ত হইয়া বহিয়া চলিয়াছে। আমরা নদী পার হইয়া একটি দুরারোহ গিরিশৃঙ্গে আরোহণ করিলাম। সেদিন ছিল শুক্লপক্ষ। শুক্লপক্ষের উজ্জ্বল চন্দ্রকিরণে দেখিতে পাইলাম দক্ষিণে ও বামে এক বিস্তৃত মালভূমি আর তাহার দুইদিকে দুইটি গিরিশ্রেণী বিরাজমান। ঐ মালভূমির উপর তুষার অতি অল্পই দেখা গেল। গিরিশ্রেণী তুষারাবৃত এবং বৃক্ষলতাহীন মরুর মত দেখা যাইতেছিল। আমরা মুক্ত গগনতলে মাটির উপরে কম্বল বিছাইয়া শুইয়া পড়িলাম। উপরে চন্দ্রকিরণোজ্জ্বল নীল আকাশ, নিম্নে তুষারমৌলি অভ্রভেদি

১৮২