হিমালয়-অভিযান
কীর্ত্তিচিহ্ন। স্তূপের উপর নানা পতাকা উড়িতেছে। আমি এই স্তূপের সন্নিকটে ভক্তিভরে মাথা নত করিয়া শ্রদ্ধা ও ভক্তি প্রকাশ করিলাম। লামা উগায়েনগিয়াৎসু একটি পতাকা খুঁটির সহিত বাঁধিয়া দিলেন। আমরা এই পবিত্র ভূমিতে অর্দ্ধ ঘণ্টা কাল বিশ্রাম করিয়া তিব্বতের মালভূমির দিকে অবতরণ করিতে লাগিলাম। বেলা তিনটার সময় একটি হ্রদের তীরে আসিলাম। সূর্য্য ক্রমশঃ ভারতবর্ষের সীমান্তরেখায় অবতরণ করিতেছিল। তাহার রক্তিম জ্যোতিঃতে চারিদিকে লোহিতাভা ফুটিয়া উঠিয়াছিল। হ্রদের স্বচ্ছ নীলাভ জলে প্রত্যেকটি পর্ব্বতশৃঙ্গ ও আকাশের বিক্ষিপ্ত বিচ্ছিন্ন শুভ্র মেঘমালা প্রতিফলিত হইয়াছিল। হ্রদটি ডিম্বাকার—দৈর্ঘ্যে ১৪মাইল ও ২৫০ গজ প্রশস্ত হইবে। এই হ্রদ হইতে নিমানদীর উৎপত্তি হইয়াছে। আমরা হ্রদের তীরে বসিয়া চিনি সহযোগে ভুট্টা খাইয়া খানিকটা তৃপ্তি বোধ করিলাম। আবার আমাদের যাত্রা শুরু হইল।
পথের দুই দিকে মরুসদৃশ্য তৃণগুল্মবিহীন গিরিশ্রেণী। আমরা প্রায় পাঁচ মাইল পথ চলিয়া “সূর্য্যদেবের চৈত্য” (Chaitya of the Sun) নামক স্থানে আসিলাম। এখানে তীর্থ-যাত্রীদের ও লামাদের বিশ্রামের জন্য পাথরের দুই একটি বাড়ী আছে। এখানে অনেক খোদিত লিপিসম্বলিত স্তূপও দেখিলাম। এই চৈত্যটি ভারতীয় বৌদ্ধ শ্রমণদের কীর্ত্তি। সেই কবে কোন্ আদি
১৮৪