বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/২০৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

শূন্য উজ্জ্বল নীল। পথের দুইধারে একজাতীয় কণ্টকগুল্মে অসংখ্য ফুল ফুটিয়াছিল। তাহাদের সৌরভে পথটি সুরভিত হইয়াছিল। এই স্থানের বৃক্ষলতাদি সবই সুগন্ধময়। ইহাদের সুগন্ধে এই স্থান আমোদিত হইতেছে বলিয়াই বোধ হয় এ স্থানের নাম গন্ধমাদন হইয়াছে।

 হিমালয়ের এই উত্তর দিকের পর্ব্বতশ্রেণীর মধ্যে নানাজাতীয় প্রস্তর ও খনিজ দ্রব্যাদি দেখিতে পাওয়া যায়। অভ্র, স্ফটিকশিলা, কৃষ্ণশিলা কত কি দেখিলাম, কিন্তু শ্লেট পাথর কোথাও দেখি নাই। রাত্রি দ্বিপ্রহরে আমরা বহু গিরি, নদী উত্তীর্ণ হইয়া থিকোঙ্গ বা থিবোঙ্গ নামক একটি গ্রামে আসিয়া উপনীত হইলাম। আমরা এখানে নিঃশঙ্কচিত্তে পরমানন্দ মনে মুক্ত আকাশতলে কম্বল জড়াইয়া সুনিদ্রায় রাত্রি কাটাইলাম। আমাদের দক্ষিণ দিকে শুভ্র-তুষার-মুকুট পরিশোভিত অগণিত গিরিশৃঙ্গ শোভা পাইতেছিল। আর বাম দিকে থিবোঙ্গের নিকটবর্ত্তী গিরিশ্রেণী প্রহরীর মত দাঁড়াইয়াছিল। সম্মুখ ভাগে দেখিতেছিলাম দিগন্তপ্রসারিত মধ্যতিব্বতের গিরিশৃঙ্গরাজি।

 ১লা জুলাই। আজ অতি প্রত্যূষে যাত্রা আরম্ভ করিলাম। পথে নিমা নদী দ্বিতীয় বার পার হইতে হইল। প্রায় এক মাইল পথ অগ্রসর হইয়াছি, এমন সময় দূরে ঘণ্টাধ্বনি শোনা গেল। আমাদের মনে হইল কোনও পর্য্যটকদল

১৮৬