তিব্বতে বাঙ্গালী—শরৎচন্দ্র দাশ
পাথর দিয়া ঢাকা দিতে ভুলিয়া গেলেন। এদিকে সঙ্গীয় পশুপাল প্রস্রবণের জল পান করিয়া জল প্রায় নিঃশেষ করিয়া ফেলিল এবং তাহাদের খুরের দ্বারা আঘাত করিয়া যে সামান্য জল ছিল তাহাও কর্দ্দমাক্ত করিয়া পানের অযোগ্য করিল। নাগকন্যা তাহার প্রিয় প্রস্রবণের এইরূপ শোচনীয় অবস্থা দেখিয়া অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হইলেন এবং ঐ উৎসটিকে সমুদ্রে পরিণত করিতে ইচ্ছা করিলেন। নাগকন্যার স্বামী ছিলেন ভারতীয় প্রধান বৌদ্ধ আচার্য্য ফা-দাম-পাই-সাঙ্গ (Pha-dam-Pai-sange)। তিনি এইরূপ কার্য্য হইতে পত্নীকে নিবৃত্ত করিতে চেষ্টা করিলেন কিন্তু তাহাতে কোনও সুফল হইল না। নাগকন্যা ক্ষুদ্র প্রস্রবণের সহিত সমুদ্রের সংযোগ সাধন করিলেন, তাহারই ফলে ক্ষুদ্র উৎস হইতে হইল এই সুবৃহৎ হ্রদের সৃষ্টি।
আমরা যে ভারতীয় আচার্য্যের কথা বলিলাম, তিনি তোঙ্গরিজঙ্গ মঠের প্রতিষ্ঠাতা। সেই মঠের মধ্যে আচার্য্যের ও তাঁহার পত্নী নাগকন্যার প্রতিমূর্ত্তি রহিয়াছে। ঐ মঠে প্রবেশ করিয়া ইঁহাদের মূর্ত্তি দেখিতে হইলে তিব্বতীয় এক টঙ্কা (ভারতীয় ৷৵৹ আনার সমতুল্য) দক্ষিণা দিতে হয়। থিকোঙ্গে আমাদের ঘোড়া মিলিল না। এখন ঘোড়াতে যাওয়াই সুবিধাজনক। আমরা থিকোঙ্গ হইতে টাঙ্গ-লাঙ্গ নামক একটি গ্রামে আসিলাম। বেশ বড় গ্রাম। প্রায় ৩০০ শতটি বাড়ী আছে। ছোট একটি
১৮৯