হিমালয়-অভিযান
নদী গ্রামের মধ্য দিয়া প্রবাহিত। নদীর দুই পাশে যবের ক্ষেত। এখানকার চমরী গোরুগুলি দেখিতে যেমন সুশ্রী, তেমনি সুস্থ ও সবল। মাঠে অনেক গাভী, ভেড়া ও ছাগল চরিতেছে। গ্রামে প্রবেশের পথে দুইটি বেশ উচ্চ চৈত্য দেখিলাম। গ্রামের মধ্যে একটি মঠে বুদ্ধদেবের মূর্ত্তি রহিয়াছে। ফুরচঙ্গ আমাদিগকে তাহার পরিচিত এক গৃহস্থের বাড়ী লইয়া গেল। বাড়ীর গৃহিণী আমাদিগকে চা এবং যবের তৈরি খাদ্য দিলেন। আমাদের রাত্রিতে থাকিবার জন্য একটি ছোট ঘর দেওয়া হইল। ঘরটি ১০ ফিট দীর্ঘ এবং ৮ ফিট প্রশস্ত হইবে। ঘরের মেজে ধূলাবালিতে পূর্ণ ছিল। এক কোণে ছিল অগ্নি জ্বালিবার চুল্লি। আমি এই ধূলাবালিভরা নোংরা ঘরে থাকিতে পারিলাম না। আমার শ্বাসপ্রশ্বাস যেন বন্ধ হইয়া আসিতেছিল। অন্য একটি ভাল ঘর দেওয়ায় আমরা নিরাপদে আশ্রয় গ্রহণ করিলাম। আমরা কেবলমাত্র বিছানা পাতিয়া একটু বিশ্রাম সুখ ভোগের আয়োজন করিতেছি, অমনি দলে দলে ভিক্ষুক আসিয়া বিরক্ত করিতে লাগিল এবং গ্রামের কৌতূহলি দর্শকেরা আসিয়া আমাদিগকে সন্ত্রস্ত করিয়া তুলিল। একটি পুরুষ ও স্ত্রীলোক বাঁশী বাজাইয়া গান করিতে আরম্ভ করিল। তাহাদের গানের মর্ম্ম হইতেছে—আমাদের যাত্রাপথ যেন শুভ হয়। আমি প্রত্যেককে চারি আনা করিয়া বকশিস্ দিয়া
১৯০