বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/২০৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

তিব্বতে বাঙ্গালী—শরৎচন্দ্র দাশ

বিদায় করিলাম। অবশেষে দর্শন দিলেন চান্‌কু। চান্‌কু হইতেছে তিব্বতের ক্ষুদ্রাকার চিত্র-ব্যাঘ্র। তিব্বতীয় ম্যাষ্টিফ বা ব্যাঘ্রাকৃতি কুকুরেরই মত প্রায় দেখিতে। এই চান্‌কুটি বেশ পোষ মানিয়াছিল। তাহার মালিকের ইঙ্গিতে চান্‌কু আমাদের অনেকবার ‘সেলাম’ করিল। বাড়ীর কর্ত্তা চান্‌কুর মালিককে বাড়ী হইতে তাড়াইয়া দিল। চিতা বাঘকে তিব্বতীয়েরা ঘৃণিত জীব বলিয়া মনে করে।

 ২রা জুলাই। আজ এখান হইতে তিনটি টাট্টু-ঘোড়া ভাড়া করিয়া রওয়ানা হইলাম। আমরা কাল যে গৃহস্থের বাড়ীতে অতিথি হইয়াছিলাম, তাহাকে জনপ্রতি এক টাকা ঘর ভাড়া দিয়া বিদায় হইলাম।

 আমাদের পথে দুইটি নদী পড়িয়াছিল। নদী দুইটির পার দিয়া পথ থাকায় পথ চলিতে কোনও অসুবিধা হয় নাই। আমরা গ্রামের পর গ্রাম উত্তীর্ণ হইয়া সন্ধ্যার প্রাক্কালে টারগে নামক একটি গ্রামে আসিলাম। গ্রামের এক দিকে একটি বিহার আছে। বিহারটির নাম সাডিং গোম্পা। এখানে পথের ধারে যাত্রীদের থাকিবার জন্য একটি ধর্ম্মশালা আছে। এ-ধর্ম্মশালাটি বেশ বড়, ঘরগুলিও ভাল! কাজেই রাত্রিতে বেশ আরামেই কাটাইয়াছিলাম। এখান হইতে দক্ষিণ দিকে কাম্বাজঙ্গ দুর্গ দেখিতে পাওয়া যায়। দুর্গটি এক উচ্চ পর্ব্বতশৃঙ্গের উপর অবস্থিত।

১৯১