বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/২১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান অতীশের তিব্বত-যাত্রা

 দীপঙ্করের কথা বলিতে যাইয়া তাঁহার জীবনী-লেখক শরৎচন্দ্র লিখিয়াছেন—“যে মহাপুরুষ তিব্বতের আদি ও শ্রেষ্ঠ ধর্ম্মপাল মহাত্মা ব্রহ্মতনের দীক্ষাগুরু, যাঁহার নাম শুনিবামাত্র প্রধান লামা ও চীনের সম্রাট্ আজিও সসম্ভ্রমে আসন পরিত্যাগ করিয়া উদ্দেশে প্রণাম করিয়া থাকেন, তিন বঙ্গদেশে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। সার্দ্ধ আট শত বৎসর পরে এ-কথা স্মরণ করিলেও ক্ষীণ প্রাণ বাঙ্গালীর দুর্ব্বল হৃদয় এক অপূর্ব্ব বলে বলীয়ান্ হইয়া উঠে; তখনই বর্ত্তমান বঙ্গভূমি ছাড়িয়া মন সহসা অতীত বঙ্গের সেই অমরাবতীতে উপস্থিত হয় এবং অধঃপতিত দেশের দুরবস্থা ভুলিয়া ভূত সৌভাগ্যের সেই দেবোদ্যানে বিচরণ করিতে থাকে।”

 আমরা বৌদ্ধ-গ্রন্থাদি হইতে জানিতে পারি যে দীপঙ্কর আনুমানিক ৯৮০ কিংবা ৯৮২-৯৮৩ খ্রীষ্টাব্দে বাঙ্গালাদেশের বিক্রমপুর বজ্রযোগিনী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সেকালে প্রাচীন বিক্রমপুর নগরীর বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল। দীপঙ্কর যে অংশে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন—সে অংশ বজ্রযোগিনী নামে আখ্যাত ছিল। ‘দেশাবলীবিবৃতি’ নামে একখানি সপ্তদশ শতাব্দীর সংস্কৃত ভৌগোলিক গ্রন্থে বজ্রযোগিনীকে ‘বরদযোগিনী’ নামে অভিহিত করা হইয়াছে। এবং সমগ্র ঢাকা জেলাকেই বরদযোগিনী দেশান্তর্ভুক্ত রূপে বর্ণনা