তিব্বতে বাঙ্গালী—শরৎচন্দ্র দাশ
পূর্ব্ব দিকে দিগন্ত বিস্তারিত তুষারমৌলি গিরিশ্রেণী। এই ঊষর সমতল ক্ষেত্রটি তিন মাইল প্রশস্ত এবং দৈর্ঘ্য কত তাহা বলা সুকঠিন। আমরা এই প্রান্তরের অর্দ্ধেকটা পথ মাত্র আসিয়াছি, এমন সময় ভীষণ ঝড় আসিল। ঝড়, বৃষ্টি, মেঘগর্জ্জনে, বজ্রনির্ঘোষে ও বিদ্যুৎস্ফুরণে আমরা অত্যন্ত বিপন্ন হইয়া পড়িলাম। আমার গাত্রবস্ত্র সমুদয় বৃষ্টির জলে ভিজিয়া গিয়াছিল। তবু ঘোড়া ছুটাইয়া দিলাম। এইভাবে ছুটিতে ছুটিতে লুক্রি নামক একটি গ্রামে আসিলাম। গ্রামের বাহিরে একটি গোয়ালঘর ছিল সেখানেই আশ্রয় লইলাম। গ্রাম্য রাখালদেরও ফিরিবার সময় হইয়াছিল, কিন্তু সেই দিকে লক্ষ্য না করিয়া ঘরের মেজে যে শুষ্ক গোময় সাজানো ছিল, তাহার উপরেই বিছানা পাতিলাম এবং রান্না-বান্না করিয়া পরম পরিতোষসহকারে ভোজন করিলাম।
বেলা পাঁচটার সময় রাখাল তাহার পালের প্রায় ৫০০ শত ভেড়া লইয়া আসিল। সঙ্গীয় কুলিরা তাহাকে আমাদের পরিচয় দিলে পর সে আমাদিগকে কোনরূপ বিরক্ত না করিয়া বিশ্রাম করিতে বলিল। আগের দিন রাত্রিতে দস্যুরা তাহার পালের অনেক ভেড়া চুরি করিয়া লইয়া গিয়াছে। কিছুকাল পরে একদল তিব্বতীয় মহাজন আমাদের ঘরের প্রায় আশী হাত দূরে তাঁবু ফেলিলেন। সন্ধ্যার সময় স্যাদালিঙ্গ-পা নামক
১৯৩