বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/২১৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

তিব্বতে বাঙ্গালী—শরৎচন্দ্র দাশ

সন্ন্যাসীর দেখা পাইলাম। তাহারা উজ্জ্বল মূল্যবান পোষাক পরিয়া পথ চলিয়াছে। তাহাদের মধ্যে অনেকে ঘোড়ায় চড়িয়াছিল। বেলা সাতটার সময় গয়ালা পর্ব্বতশৃঙ্গের কাছাকাছি আসিলাম। এখান হইতে যে বিস্তৃত সমতল ভূমি দেখা যাইতেছিল, তাহারই শেষ প্রান্তে তাসিলুমপোর বিহার অবস্থিত। এখান হইতে পশ্চিম দিকে নার্থাঙ্গ বিহার দেখা যাইতেছিল। নীল পর্ব্বতশ্রেণীর প্রান্তভাগে নার্থাঙ্গ মঠের শ্বেত প্রাচীর ও স্তম্ভ অপূর্ব্ব শোভা বিস্তার করিতেছিল। আমাদের পদতলবাহিনী পিনাম-নিয়াঙ্গ-চু নদীর রজতশুভ্র-সলিল-ধারা সূর্য্য কিরণে ঝলসিত হইতেছিল। ক্রমে আমরা উচ্চ গিরিপথ হইতে সমতল ভূমিতে নামিয়া আসিলাম। এখান হইতে তাশিলুনপো মঠের দৃশ্য অতি সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হইতেছিল। এই স্থানে মঠের প্রধান লামা-পানচাঙ্গ-রিন্‌পো-চির বাসস্থান তাশিলুনপো শব্দের অর্থ হইতেছে “পর্ব্বত-শ্রেষ্ঠ।” দূর হইতে মনে হইতেছিল তাশিলুনপো যেন একটি সুবর্ণগিরি।

 আমরা অশ্বারোহণে মনের আনন্দে অগ্রসর হইতে লাগিলাম এবং দিলি নামক গ্রামে আসিলাম। দিলি তাশিলুন-পোর নিকটবর্ত্তী একটী ক্ষুদ্র গ্রাম। এখানে প্রায় ৩০০টি বাড়ী আছে এবং স্থানীয় অধিবাসীরা সমৃদ্ধিশালী। আমরা এই গ্রামের ইয়াঙ্গচানপুটি নামক একজন ভদ্রমহিলার বাড়ীতে

১৯৫