বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/২১৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

সেস্থান হইতে নদীর দূরত্ব প্রায় দেড় মাইল হইবে। যখন আমরা নদীর কাছে আসিলাম, তখন নদীর অপর তীরে আক্সগড় নামে একটি গ্রাম দেখা গেল। ঐ গ্রামে আসিল নামক এক দুর্দ্দান্ত জাতীয় লোক বাস করে। রাত্রিতে আমরা নরঞ্জা নামক গ্রামে ছিলাম। ইহা তোতাই পরগণার অন্তর্ভূত।

 ১৫ই জুন। আজ প্রত্যূষে ইসার নামক গ্রামে আসিলাম। সোয়াত-নদী-বিধৌত এই প্রদেশের গিরিপথে ‘চড়াই’ ও উৎরাই খুব বেশী। এই পথে চলিতে চলিতে আমরা অনেক গ্রাম পার হইলাম। এ-অঞ্চলের প্রস্তরাকীর্ণ মাঠে ফসল অতি অল্পই জন্মে। প্রধান শস্য হইতেছে যব। এখানকার লোকেরা ছোটখাট ব্যবসায়-বাণিজ্য করিয়া জীবিকা-নির্ব্বাহ করে। সাধারণতঃ পেশোয়ার জেলার নানা স্থানে কাঠ ও কয়লার ব্যবসায়ই হইতেছে প্রধান। ইহাদের আর একটি ব্যবসায় হইতেছে দস্যুবৃত্তি।

 ১৬ই জুন। আমরা ইস্‌সার গ্রাম হইতে রওয়ানা হইয়া মাৎ কানাই নামক স্থানে চামড়ার ভেলায় করিয়া সোয়াত নদী পার হইলাম। এইসব ভেলাকে স্থানীয় লোকেরা ‘জলা’ বলে। আমরা যখন সোয়াত নদী পার হইবার জন্য খেয়াঘাটে অপেক্ষা করিতেছিলাম, তখন নৌকার একজন মাঝি আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, ‘আপনার বাড়ী কি পেশোয়ার?’ আমি বলিলাম ‘হাঁ।’

২০০