মোল্লা আতা মুহম্মদ
কাজেই আমাদের পক্ষে ঐ গ্রামে থাকিয়া অনাবশ্যকভাবে জীবন বিপন্ন করা সঙ্গত মনে করিলাম না।
২৩শে জুন। আজ কারারাই নামক একটি গ্রামে আসিয়া বিশ্রাম করিলাম। এই গ্রামটি শিবুজনী পর্ব্বতের অধিত্যকা দেশে অবস্থিত। সারসিনাই গ্রামবাসী খান সৈয়দ আহম্মদ শাহা নানক একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি কয়েক বৎসর আগে আপনাকে শিবুজনী অধিত্যকা প্রদেশের নবাব বলিয়া ঘোষণা করেন এবং উৎপন্ন শস্যের দশম ভাগের এক ভাগ রাজস্ব স্বরূপ আদায় করিতে থাকেন এবং গৃহপালিত পশুর উপরও একটা কর ধার্য্য করেন। এইরূপ করের নাম ‘উষার’। উষার আরবী শব্দ, উহার অর্থ ‘ঈশ্বরবৃত্তি’। এই করতে কর না বলিয়া জনসাধারণের স্বেচ্ছাকৃত দান বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। কেননা এইভাবে সংগৃহীত শস্য ও অর্থ গরীব দুঃখী ও অসমর্থ, পঙ্গু ব্যক্তিদের মধ্যে বিতরিত হইত।
খান সৈয়দ আহম্মদ সাহেবের মৃত্যুর পর নিকটবর্ত্তী গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছাক্রমে তাঁহার পুত্রকে ‘আখুন্দ’ বা নবাব করিতে ইচ্ছা করেন। কিন্তু তিনি বলিলেন যে আমি একজন ফকির মাত্র এবং আমার পুত্রও একজন ফকিরই হইবে। আমি ধন-সম্পদ এবং মান—প্রতিপত্তি দিয়া কি করিব? কাজেই গ্রামের প্রধানেরাই গ্রাম্য শাসন-সংরক্ষণ করিয়া আসিতেছেন। সৈয়দ আহম্মদ শাহা শিবুজনিরই অধিবাসী ছিলেন।
২০৫