বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/২২৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

 ২৪শে জুন। আজ আমরা শিবুজনি অধিত্যকার চারিদিক পর্য্যবেক্ষণ করিয়া দেখিলাম। দেখিলাম এ-অঞ্চলের এক গ্রামের লোকের সহিত অন্য গ্রামের লোকের কোনও প্রীতির ভাব নাই, এক গ্রামের লোক অন্য গ্রাম আক্রমণ করিয়া লুঠতরাজ করিবার জন্য ব্যগ্র। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এই রূপ মারামারি কাটাকাটি চলিতেছে। তবু আমি সাহস সহকারে উপত্যকার চারিদিক পর্য্যবেক্ষণ করিলাম।

 ২৫শে জুন। দুরুশখেলা নামক একটি গ্রামের কাছে চামড়ার ভেলায় সোয়াত নদী পার হইয়া বাশিন নামক গ্রামে আসিলাম। সেখানে বিশ্রাম না করিয়া চুরাই নামক গ্রামে পৌঁছিলাম। সোয়াত নদী-বিধৌত উপত্যকা ভূমির প্রান্তদেশে এই গ্রামটি অবস্থিত। গ্রামখানি যে অধিত্যকা প্রদেশে অবস্থিত তাহা দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে প্রায় সমান। তিন চার মাইল পরিমিত হইবে। কোথাও কোথাও চওড়া একটু কমও হইতে পারে। দুই দিকে শ্যামল বনানী পরিবৃত পর্ব্বতশ্রেণী। পর্ব্বতশৃঙ্গগুলি খুব উচ্চ নহে। ঐ সকল পর্ব্বতশ্রেণীর অধিত্যকা প্রদেশ অত্যন্ত উর্ব্বর এবং ঐ সব স্থানে আঙ্গুর, বাদাম, এই সব নানা ফল প্রচুর পরিমাণে জন্মে। চুরাইর দুই মাইল দূরে সোয়াত-বিধৌত প্রদেশের ও কোহিস্থানের সীমা। এ-অঞ্চলে দুইটি প্রসিদ্ধ গ্রাম আছে—একটির নাম থানা, অপরটির নাম মিঙ্গ্‌রাউরা।

২০৬