বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/২২৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

চাম গ্রামের পাশে আসিয়া আমি এক দুঃসাহসিকতার কাজ করিতে বাধ্য হইয়াছিলাম। নদী পার হইয়া একটি তরুচ্ছায়াসম্পন্ন তৃণাচ্ছাদিত মনোরম স্থান দেখিলাম। কয়েকটি শাখাপত্রবহুল বড় বড় গাছ। নীচে সবুজ গালিচার মত সমতল ভূমি। আমার ঐ স্থানে গিয়া একটু বিশ্রাম করিবার ইচ্ছা হইল। কিন্তু কাছে আসিয়া দেখিলাম, প্রায় ছয়জন লোক সেই তরুশ্রেণীর ছায়ায় বসিয়া বিশ্রাম করিতেছে। তাহারা আমাদের দেখিয়া সকলে একসঙ্গে ঐ স্থানে বিশ্রাম করিবার জন্য আমাকে অনুরোধ করিল। তাহাদের আকৃতি-প্রকৃতি দেখিয়া আমার মনে কেমন যেন একটা সন্দেহের ভাব আসিল। আমি তাহাদের কথায় কর্ণপাত না করিয়া পথ চলিতে আরম্ভ করিলাম। তখন লোকগুলি আমার সঙ্গীয় ভৃত্যদের কাছে আসিয়া কহিল,—“তোমরা অত্যন্ত ক্লান্ত হইয়াছ, তোমাদের বিশ্রামের দরকার। আমরা তোমাদের গন্তব্য স্থান পর্য্যন্ত মালপত্র লইয়া যাইতেছি।” এই বলিয়া আমার সঙ্গীয় ভৃত্য দুই জনের নিকট হইতে মালপত্র কাড়িয়া লইতে চেষ্টা করিল। আমি দেখিলাম যে লোকগুলো বড়ই বাড়াবাড়ি করিতেছে, তখন তাহাদিগকে সম্বোধন করিয়া দৃঢ়কণ্ঠে কহিলাম,—“সাবধান, তোমরা যদি এইভাবে আমাদের বিরক্ত কর, তাহা হইলে আমি তোমাদিগকে গুলি করিয়া মারিব। কথা বলিবার সঙ্গে সঙ্গেই পিস্তল উঁচু করিয়া ধরিলাম।

২০৮