বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/২২৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
মোল্লা আতা মুহম্মদ

লোকগুলি সংখ্যায় বেশী হইলেও আমি বিন্দুমাত্রও ভীত হইলাম না, কেননা আমি সশস্ত্র ছিলাম। সঙ্গে ছিল মাত্র দুইজন ভৃত্য। তবু আমার এইরূপ নির্ভীকভাব এবং সাহস দেখিয়া তাহারা আর কোনও গোলযোগ করিল না। আমরাও অগ্রসর হইতে লাগিলাম। খানিক দূরে গিয়া দেখি তাহারা পাহাড়ের কোন সোজা পথ ধরিয়া আসিয়া আমাদের অগ্রবর্ত্তী হইয়াছে। কিন্তু ঐ লোকগুলি এইবার একটি কথাও না বলিয়া আপনাদের গন্তব্য পথে চলিয়া গেল। তাহারা বুঝিতে পারিয়াছিল যে আমাদের সঙ্গে যুঝিয়া উঠা তাহাদের পক্ষে বড় সুবিধা হইবে না, বরং মৃত্যুর আশঙ্কা আছে।

 ২৮শে জুন। আজ গুজারবান্দা নামক একটি অতি ক্ষুদ্র পল্লী অতিক্রম করিলাম। গ্রামখানিতে ছয় সাতটি মাত্র ঘর। নদীর পার দিয়া পথ। এই নদীকে স্থানীয় লোকেরা বলে কোহিস্থানের নদী। কোহিস্থানের প্রবেশের পথটি বড়ই সঙ্কীর্ণ। দুই দিকে পর্ব্বতশ্রেণী। পর্ব্বতের গায়ে চীর, দেবদারু, ওক্ প্রভৃতি গাছ। এখানে ‘রয়াল পাইন’ নামক গাছ অনেক। গাছগুলি শাখাপ্রশাখায় বহু দূর পর্য্যন্ত ছড়াইয়া শোভা পাইতেছে। এ গাছ কাঠের দিক্ দিয়া অত্যন্ত মূল্যবান বলিয়া বিবেচিত হইয়া থাকে। ওক্ গাছের পাতা এখানকার গোরু, ছাগল ও ভেড়া প্রভৃতির অতি প্রিয় খাদ্য। এই গাছের কাঠও

২০৯